খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে চৈত্র ১৪৩২ | ১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বব্যাপী পর্যটন বীমার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ এখনও এই খাতে পিছিয়ে রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য কিছু সীমিত সেবা থাকলেও অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প নেই। এর ফলে দেশীয় পর্যটকরা ঝুঁকি মোকাবেলায় সীমিত আর্থিক সুরক্ষা পাচ্ছেন।
পর্যটন বীমা অপ্রত্যাশিত ঘটনার বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জরুরি চিকিৎসা, ভ্রমণ বাতিল বা স্থগিত হওয়া, বিমান বিলম্ব, হারানো লাগেজ, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। সঠিক বীমা থাকলে ভ্রমণকারীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভ্রমণ করতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতি বা মানসিক চাপ কমে।
বিশ্বব্যাপী পর্যটন বীমার বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে এর বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৬০–৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূল কারণ হিসেবে মহামারীর পর ভ্রমণ পুনরুদ্ধার, ঝুঁকি সচেতনতার বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজ বীমা ক্রয় ও দাবির প্রক্রিয়া উল্লেখ করা যায়। বিশ্ব পর্যটন ও ভ্রমণ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন বিশ্বের জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে।
| বছর | বৈশ্বিক পর্যটন বীমা বাজার (বিলিয়ন মার্কিন ডলার) | প্রত্যাশিত মূল্য (বিলিয়ন মার্কিন ডলার) |
|---|---|---|
| ২০২৪ | ২৭ | – |
| ২০৩০ | – | ৬০–৬৫ |
সাধারণ পর্যটন বীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে ভ্রমণ বাতিল বা বিঘ্নিত হওয়া, জরুরি চিকিৎসা ও দাঁতের চিকিৎসা, জরুরি স্থানান্তর এবং দেশে ফিরিয়ে আনা। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বিমানের বিলম্ব, হারানো লাগেজ, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিছু নীতিতে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বা পূর্ববর্তী চিকিৎসার শর্ত অনুযায়ী বর্ধিত সুবিধা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে আলিয়ানজ, এক্সা, এআইজি (ট্রাভেল গার্ড), জেনারালি এবং ওয়ার্ল্ড নোম্যাডস প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে।
বাংলাদেশে মোট বীমার অবদান জিডিপির ০.৫ শতাংশের কম, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্নের মধ্যে। দেশীয় পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বীমা না থাকায় বিদেশি পর্যটকেরাও প্রায়শই তাদের নিজ দেশ থেকে বীমা গ্রহণ করে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেটের চা বাগানসহ দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক সংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত বীমার অভাবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। পর্যটন বীমা প্রসার করলে বিদেশি ও দেশীয় পর্যটকের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, উচ্চমূল্যের পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিজিটাল বীমা প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক বীমা সংস্থা এবং ভিসা বা পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে বীমা সংযুক্তকরণ বাংলাদেশে পর্যটন বীমার প্রসার ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণাও অপরিহার্য।
ভ্রমণকারীরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে এখন প্রধান্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি নীতিগত সংস্কার ও কৌশলগত বিনিয়োগ করে, তবে পর্যটন বীমার অপ্রযুক্ত ক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য সুযোগ অর্জন করা সম্ভব।