খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ধাপে ধাপে সব কাজ শেষ করার পর শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হওয়ার কথা। ইসি’র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৩ই নভেম্বর সংলাপ শুরু হবে। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দলগুলো এই সংলাপে আমন্ত্রণ পাচ্ছে না। সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, ইসি’র নিবন্ধন তালিকায় স্থগিত থাকা দল এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ কয়েকটি দলকে সংলাপের বাইরে রাখা হয়েছে।
ইসি সূত্র বলছে, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আইন সংশোধন ও নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ইসি। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপও পিছিয়েছে। ১৩ই নভেম্বর প্রথম দিনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকালে দুই দফায় ছয়টি করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংলাপের বিষয়ে ইসি’র সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সংলাপের সময় নির্ধারণ করা হবে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের আচরণ বিধিমালা গেজেট পাওয়ার পর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চায় সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক এবং জনগণের আস্থা অর্জনকারী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সংলাপকে কার্যকর প্ল্যাটফরম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে আচরণবিধি বাস্তবায়ন, প্রার্থীর আচরণ, প্রচারণার নিয়ম, নির্বাচনী ব্যয় ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে।
ইসি’র সূত্র জানায়, বর্তমানে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। জাতীয় পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, জাকের পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, সাম্যবাদী দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটকে সংলাপে না ডাকার অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি সেশনে ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকবেন। একদিনে দুটি সেশনে ১২টি দলের প্রতিনিধিকে ডাকা হবে। সংলাপ শুরু হলে সর্বশেষ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৩ সালের ১লা নভেম্বর ৪৪টি দলকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তৎকালীন কমিশন সব দলকেই আমন্ত্রণ জানায়। আওয়ামী লীগসহ কিছু দল অংশ নিলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা বিরোধী জোটগুলো ‘ডামি নির্বাচন’ আখ্যা দেয়।
ত্রয়োদশ ভোটের তফসিল ঘোষণার জন্য ইসি দ্রুত উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যেসব কাজ বাকি আছে, তা নভেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। দু’এক দিনের মধ্যে আচরণবিধি সংশোধনীর গেজেট প্রকাশ হতে যাচ্ছে। বড় সংশোধনীসহ খসড়া বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালার খসড়া চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত করা হবে। আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনের সব আয়োজন চলছে, তবে গণভোট বিষয়ে সরকার নির্দেশনা না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
খবরওয়ালা/টিএসএন