খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে আজম খান এক অবিস্মরণীয় নাম—যিনি ‘পপগুরু’ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই শিল্পী স্বাধীনতার পর সংগীতে মনোযোগ দেন এবং গড়ে তোলেন নিজস্ব ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। তবে তাঁর মৃত্যুর (৫ জুন ২০১১) পর থেমে যায় ব্যান্ডটির কার্যক্রম।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও নতুন উদ্যমে ফিরে আসছে আজম খানের প্রতিষ্ঠিত সেই ব্যান্ড। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ব্যান্ডটির পুনর্জাগরণে আজম খানের পরিবার, বর্তমান ব্যান্ড সদস্য এবং ইভেন্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ৮ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যান্ডের পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে তিন পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজম খানের কন্যা অরনী খান, ব্যান্ডের দলনেতা দুলাল জোহা, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার শোভন, ব্যবস্থাপক এজাজ রহমান এবং কুল এক্সপোজারের প্রধান নির্বাহী এরশাদুল হক।
আজম খানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে শুরু হয় ‘উচ্চারণ’-এর যাত্রা। সেই বছরই বিটিভিতে প্রচারিত তাঁর গান ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কলেমা সাক্ষী দেবে’ তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তীতে ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘আলাল ও দুলাল’—এমন বহু কালজয়ী গানে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেন তিনি।
চুক্তি অনুযায়ী, আজম খানের নাম, ছবি, গান ও সৃষ্টিশীল সব সম্পদের কপিরাইট থাকবে তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে কুল এক্সপোজার ব্যান্ডের প্রচারণা, রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা ও কনসার্ট আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে।
ব্যান্ডলিডার দুলাল জোহা বলেন,
“এই চুক্তি শুধু ‘উচ্চারণ’-এর পুনরাগমন নয়, এটি আজম খানের সংগীত ঐতিহ্যকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আমরা তাঁর গানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দিতে চাই।”
বর্তমানে ‘উচ্চারণ’-এর সদস্যরা হলেন—দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকেশান), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (কিবোর্ড) এবং বাপ্পী (ড্রামস)। ব্যান্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর ‘উচ্চারণ’ দেশে ও বিদেশে একাধিক কনসার্টে অংশ নেবে। এছাড়া এ মাস থেকেই তাদের দেখা যাবে টেলিভিশনের সরাসরি গানের অনুষ্ঠানে।
আজম খানের প্রথম অডিও অ্যালবাম ‘এক যুগ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। মোট ১৭টি অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি শ্রোতাদের। সংগীতের পাশাপাশি খেলাধুলা ও অভিনয়েও ছিলেন সমান আগ্রহী—১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেন, ২০০৩ সালে অভিনয় করেন ‘গডফাদার’ চলচ্চিত্রে, বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হন এবং সাঁতারের প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।