খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রেড ফোর্টের কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)-এর সম্পৃক্ততার দাবি করেছে ভারতীয় পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি ছিল একটি হুন্দাই আই–২০, যাতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) ব্যবহার করা হয়েছিল। ভয়াবহ এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন নয়জন।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, হামলার পেছনে রয়েছেন জইশ প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহার, যিনি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার জন্যও দায়ী ছিলেন। সেই হামলায় ৪০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। প্রতিশোধ হিসেবে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বালাকোট ও বাহাওয়ালপুরে জইশের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়।
বাহাওয়ালপুরে ওই হামলায় আজহারের পরিবারের অন্তত ১০ সদস্য নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর ভগ্নিপতি ইউসুফ আজহার। পরে ইউসুফের স্ত্রী সাদিয়া আজহার-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় সংগঠনের নারী শাখা ‘জামাত উল-মুমিনাত’-এর নেতৃত্ব। সাদিয়া ও তাঁর বোন সামাইরা আজহার পরবর্তীতে অনলাইনে নারীদের জন্য জিহাদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেন।
সাম্প্রতিক তদন্তে দিল্লির রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের সঙ্গে এই নারী শাখার দুটি সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। প্রথমত, হামলায় জড়িত ছিল জইশের একটি সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র। দ্বিতীয়ত, শাহীনা শাহিদ নামের এক নারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যার মালিকানাধীন গাড়ি থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
শাহীনা শাহিদ পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ হাসপাতালে কাজ করতেন সহকর্মী ডা. মুজাম্মিল শাকিল-এর সঙ্গে। সোমবার (১০ নভেম্বর) দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, শাহীনা ভারতে জইশের নারী শাখার নেতৃত্বে ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, বিস্ফোরণটি ঘটান আরেক চিকিৎসক ডা. উমর মোহাম্মদ, যিনি সহকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর আতঙ্কে বিস্ফোরণ ঘটান। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষিত পেশাজীবীদের মাধ্যমে হামলা চালানো জইশ-ই-মোহাম্মদের নতুন কৌশলের অংশ হতে পারে।