খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন বণ্টন নিয়ে সমমনা দল ও জোটের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় না বসায় শরিক দলগুলো ক্রমেই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। বিএনপি ইতোমধ্যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছে—যা সমমনা দলগুলোর জন্য বরাদ্দ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু কোন দল কোন আসনে সুযোগ পাবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সমমনা দলগুলোর অভিযোগ, যেসব আসনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, সেসব আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরাই মাঠে নেমে কাজ করছেন। এতে শরিকরা দ্বিধা–দ্বন্দ্বে পড়েছেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ বিভিন্ন জোট নেতারা জানান—বিএনপি আসন বণ্টনে ধীরগতি দেখাচ্ছে, যা সমমনা জোটের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।
মানবজমিনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার মান্না ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মধ্যে মোবাইলে অনানুষ্ঠানিক কথা হলেও BNP এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেনি। শরিকদের অভিযোগ—বিএনপি আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ করছে না; এমনকি কিছু আসনে নিজেরাই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলায় শরিকরা বিভ্রান্ত।
এদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান—খুব দ্রুতই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা হবে। তবে দলীয় সূত্র বলছে—ঘোষিত তালিকার কিছু আসনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সমমনা দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্তত ১৫টির বেশি আসনে শরিকরা BNP’র সমর্থন চাইছেন। কিন্তু অনেক আসনে আবার BNP নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলায় জোটের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়ছে।
ঢাকা–১০ আসনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচনে অংশ নিতে চান এবং তিনি BNP’র সমর্থন পাবেন কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। অন্যদিকে ১২ দলীয় জোটও অভিযোগ করেছে যে—বিএনপি আসন ঝুলিয়ে রাখায় প্রতিপক্ষরা প্রচার শুরু করে দিয়েছে, কিন্তু তারা পিছিয়ে পড়ছে।
সমমনা দলের নেতারা মনে করছেন—সময়ক্ষেপণ অব্যাহত থাকলে জোটগত শক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে, যা নির্বাচনে বিএনপি–কেন্দ্রিক বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।