খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
দোহায় ফাইনাল ছিল এক নাটকীয় সন্ধ্যার নাম। বাংলাদেশ ‘এ’ দল চাইলে অন্তত এক রাতের জন্য ইতিহাস লিখতে পারত। কিন্তু ক্রিকেটে যেমন বলা হয়—চাপের সময়ে যে দল পরিষ্কার মাথা রাখে, জয়ও তাদের কাছেই ধরা দেয়। সেদিন সেটাই করল পাকিস্তান শাহিনস। বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েও ধরে রাখতে পারল না।
বাংলাদেশের বিপর্যয় আসলে শুরু হয় মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক থেকে। ১২৬ রানের তাড়া—টি২০ ক্রিকেটে মোটেও ভয়ানক নয়। বরং পাওয়ার প্লেতে তারা আগ্রাসী ব্যাটিং করেই দেখায়। কিন্তু হাবিবুর রহমানের উইকেট পতনের পর যে ভেঙে পড়া মানসিকতা দেখা গেল, তা বড় দলের লক্ষণ নয়। ১৭ রানে ৬ উইকেট হারানো কোনও দক্ষতার সমস্যা নয়—এটি সম্পূর্ণ মানসিক চাপের ব্যর্থতা।
তবে বিস্ময়করভাবে দলের সবচেয়ে বাইরের লাইন, অর্থাৎ টেইলেন্ডাররাই এগিয়ে এলেন লড়াই বাঁচাতে। রিপন–সাকলাইন বুঝিয়ে দিলেন যে প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে দল তখনও ম্যাচে ফিরতে পারে। তাঁদের ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাস, সাহস আর নির্ভীকতার নিটোল মিশ্রণ।
সুপার ওভারে ব্যাটিং করার সময় আবারও দেখা গেল প্রস্তুতির অভাব। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোয় কীভাবে শান্ত থাকা যায়—এমন প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ঘাটতি চোখে পড়েছে স্পষ্টই। পাকিস্তান সুপার ওভারে যে স্বস্তিভাব নিয়ে ব্যাট করেছে, তা বাংলাদেশের ব্যাটারের চোখে ছিল না।
তবু বাংলাদেশের এই ফাইনালকে ‘ব্যর্থতা’ বলা ভুল হবে। বরং এটি শিক্ষার দরজা খুলে দিল। রিপন–সাকলাইনের মতো তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছেন, মানসিকভাবে শক্ত থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে। এখন প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাপ সামলানোর বিজ্ঞান শেখা।
ক্রিকেটের রূপকথা সেই রাতে লেখা হয়নি—কিন্তু হয়তো ভবিষ্যতের গল্পের বীজ রোপিত হয়েছে।