খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের বেঙ্গালুরুর বিদ্যা মৃত্যুর আগে পুলিশকে জবানবন্দিতে জানান, ঘুমের মধ্যে স্বামী সিরিঞ্জ দিয়ে তাঁর শরীরে পারদ প্রবেশ করিয়েছিলেন। টানা ৯ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি মাসে তিনি মারা যান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পারদের বিষক্রিয়ায় তাঁর একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেঙ্গালুরুর আত্তিবেলে এলাকায় বসবাস করতেন বিদ্যা ও তাঁর স্বামী বসবারাজ। মৃত্যুর আগে বিদ্যা জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর পরদিন সন্ধ্যায় তাঁর ঘুম ভাঙে। জেগে ওঠার পর ডান উরুতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং মনে হয়, তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এরপর পা ফুলে যায় এবং হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে।
অবস্থা গুরুতর হলে ৭ মার্চ তিনি আত্তিবেলের সরকারি হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাঁকে অক্সফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর শরীরে পারদের বিষক্রিয়া শনাক্ত করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলেও পারদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
জবানবন্দিতে বিদ্যা জানান, তাঁর স্বামী বসবারাজকে ক্লোরোফর্ম, সিরিঞ্জ ও পারদ সরবরাহ করেছিলেন এক ল্যাব টেকনিশিয়ান দম্পতি, যারা কাজ করেন এসএলএন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এ কাজে বসবারাজকে সহায়তা করেছিলেন তাঁর শ্বশুর মারিস্বামাচারী।
বিদ্যার অভিযোগ ছিল, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই শরীরে পারদ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিয়মিত নির্যাতন, অপমান ও অবহেলার শিকার হতেন। স্বামী তাঁকে ‘পাগল’ বলে অপমান করতেন, ঘরে আটকে রাখতেন এবং আত্মীয়দের বাড়িতে যেতে দিতেন না।
অক্সফোর্ড হাসপাতালে এক মাসের বেশি চিকিৎসার পর তাঁকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, পারদের বিষক্রিয়ায় তাঁর পুরো শরীর আক্রান্ত হয়েছিল। কিডনিসহ একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁকে পরে ডায়ালাইসিস করতে হয়। অবশেষে টানা ৯ মাসের চিকিৎসার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
বিদ্যা ও বসবারাজ দম্পতির চার বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন