খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজে হযরত মুহাম্মদ (সা.)–কে কটূক্তির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীর নাম বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মন, যিনি কলেজের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ (২০২৩–২৪ সেশন)–এর শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ফেসবুক কমেন্টকে কেন্দ্র করে। ‘ফারিহা আক্তার’ নামের একটি ফেইক আইডি ‘শাহ মাহমুদ’ নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর পোস্টে মন্তব্য করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মন্তব্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ব্যবহার করা হয়। মুহূর্তেই মন্তব্যটি বিভিন্ন ছাত্রগ্রুপের ইনবক্স, মেসেঞ্জার ও গ্রুপ চ্যাটে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে শিক্ষার্থীরা সন্দেহভাজনভাবে আইডিটির ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন তথ্য–প্রমাণ মিলিয়ে জানা যায়, ‘ফারিহা আক্তার’ নামের ভুয়া আইডিটি পরিচালনা করছিলেন বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মন। এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর ছাত্ররা তাকে ক্যাম্পাসে খুঁজে বের করে আটক করে।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। কয়েকশ শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে, কলেজ প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করে। প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিশ্বজিৎ নিজের ভুল স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য প্রশাসন তাকে দ্রুত পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকে মনে করেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে।
এই বিষয়ে একই সেশনের শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ রাজন বলেন—
“আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। পাশাপাশি মুসলিম নারীদের পোশাক ও আচরণ নিয়ে কটূক্তিও নিন্দনীয়। এ ধরনের মন্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং সামাজিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে।”
এ ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা তরুণ সমাজে ভুয়া আইডি ব্যবহার, অনলাইন হয়রানি এবং ধর্মীয় উসকানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সতর্ক না হলে একটি কমেন্টই বড় ধরনের সংঘাত বা আইনগত সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পরবর্তীতে আইনের কোন ধারায় মামলা নেওয়া হবে, তা তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।