খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ভারত কখনো ঘরের মাঠে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি। সেই কিংবদন্তি ধারাকে প্রথম ভাঙেন গম্ভীরের অধীনে খেলা দলই, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে হার দিয়ে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে আরও একবার ধবলধোলাই, ফলে চাপে পড়েছেন কোচ।
| প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | ফলাফল | তারিখ |
|---|---|---|---|
| নিউজিল্যান্ড | ভারত | ০–৩ | অক্টোবর ২০২৩ |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ভারত | ০–২ | ডিসেম্বর ২০২৪ |
এই ব্যর্থতার পর নানা মহলে গম্ভীরের কোচিং পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠলেও ডি ভিলিয়ার্স সরাসরি তাঁর কৌশলকে দায়ী করেননি। বরং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন গম্ভীরের আবেগ–নির্ভর ব্যক্তিত্ব নিয়ে।
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে ডি ভিলিয়ার্স বলেন—
“গম্ভীরকে আমি সবসময় আবেগপ্রবণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছি। ড্রেসিংরুমে কেউ যদি অত্যধিক আবেগপ্রবণ হয়, তা দলের জন্য সবসময় ভালো নয়। তবে আমরা জানি না পর্দার আড়ালে সে কেমন আচরণ করে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“নেতৃত্বের কোনো একক রেসিপি নেই। কেউ আবেগী হয়েও সফল হয়, কেউ হয় শান্তস্বভাব। ক্রিকেটাররা এ ধরনের নেতৃত্ব ভিন্নভাবে গ্রহণ করে।”
ভারতের টেস্ট দলে এখন বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে অলরাউন্ডারদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক—এটা এখন আলোচনার প্রধান বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞতার অভাবেই চাপের মুহূর্তে ভারত ভেঙে পড়ছে।
কোহলি, রোহিত শর্মা, অশ্বিন—এরা টেস্ট ফরম্যাটে সাইডলাইনে যাওয়ার পর তরুণদের ওপর দায়িত্ব বাড়লেও, সেই দায়িত্ব তাঁরা যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না।
সব সমালোচনার মাঝেও তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী—
“ভারতের প্রতিভা ভাণ্ডার বিশাল। কিছু ব্যর্থতা হয়তো রূপান্তর পর্যায়ের অংশ। তরুণদের আরও সুযোগ দিলে দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক সম্পর্কে ডি ভিলিয়ার্স বলেন—
“বাভুমা ভয়ংকর বা আগ্রাসী চরিত্র নয়। কিন্তু সে দেখিয়ে দিয়েছে, শান্তস্বভাবের অধিনায়কও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে।”
ভারতীয় ক্রিকেট বর্তমানে পরিবর্তন পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে গম্ভীরের ভবিষ্যৎ এখন কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে তাঁকে এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে।