খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সেই বিকেলটা যেন লন্ডনের আকাশের মতোই ধূসর। কিন্তু মাঠে উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। আর্সেনাল এসে দাঁড়িয়েছিল লিগে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে। অন্যদিকে চেলসি চাইছিল নিজেদের সাম্প্রতিক উন্নতির ধারাকে আরও ধারালো করতে। কিন্তু যে নাটক ফুটে উঠল, তা কেউ কল্পনাও করেনি।
৩৮ মিনিটে ম্যাচের গতি পুরো বদলে যায়। মিকেল মেরিনোকে ফাউল করে মইজেস কাইসেদো যখন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, তখন আর্সেনাল সমর্থকরা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে উল্লাসে চিৎকার করে ওঠে—ভাবনা, এখন আর জেতা কঠিন কিছু না। কিন্তু ফুটবল কখনও এত সহজ হয় না।
চেলসি হঠাৎ যেন নতুন শক্তি খুঁজে পায়। ১০ জন নিয়ে যেভাবে তারা লড়তে থাকে, তা ছিল প্রকৃত দৃঢ়তার নামান্তর। বিরতির পরেই গোলের দেখা পায় দলটি। জেমসের কর্নার থেকে উঠে আসা সেই হেড—চ্যালোবাহর মাথা থেকে বল যখন জালে জড়ায়, পুরো ব্রিজ যেন উন্মাদনায় কেঁপে ওঠে।
আর্সেনালের খেলোয়াড়দের চোখে তখন তাড়াহুড়ো। তারা বুঝতে পেরেছিল—এখন গোল করা ছাড়া বিকল্প নেই। এবং আসে গোল। বুকায়ো সাকার পা থেকে উঠে আসা নিখুঁত এক ক্রস, আর সেখানে মেরিনোয়ের মাথা—এক নিমেষেই স্কোরলাইন ১-১।
শেষ ৩০ মিনিট ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। আর্সেনাল বারবার ঢুকছে, শট নিচ্ছে, ক্রস দিচ্ছে। আর চেলসির খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের শরীরটাই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রুখে দিচ্ছে সব আক্রমণ।
স্টেডিয়ামের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্সেনাল খেলোয়াড়দের চোখে হতাশা। সুযোগটা ছিল, ছিল সংখ্যাগত সুবিধা, ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ—কিন্তু জয়সূচক গোলটি ছিল না।
১৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনাল শীর্ষে থাকলেও, এই ড্র ভবিষ্যতে তাদের ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াতে পারে। চেলসি, যদিও জয় পেল না, তবুও তাদের আত্মবিশ্বাসের ভান্ডার অনেকটাই ভরে উঠেছে।
একটা ডার্বি—দুই গল্প। এবং দুটো গল্পই মনে রাখার মতো।