খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় ছয়জন শিশু–কিশোরকে অপহরণ করেছে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় তারা খেলার মাঠে ছিলেন। ঘটনায় দুজন শিশুই কৌশলে পালাতে সক্ষম হয়েছেন, তবে বাকি চারজন এখনও জিম্মি রয়েছেন।
এই ঘটনা ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পূর্বপাড়ায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফেজ আহমদ। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, শিশুরা খেলার সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে গভীর পাহাড়ে নিয়ে যায়। অপহৃতদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
হাফেজ আহমদ বলেন, “স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেছেন। আমরা এবং পুলিশ মিলে অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে পাহাড়ে তল্লাশি চালাচ্ছি। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চার শিশুর খোঁজ মেলেনি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই তাদের অপহরণ করা হয়েছে।”
বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানান, “শিশু–কিশোরদের অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। আমরা অপহৃতদের উদ্ধার করার জন্য কাজ চালাচ্ছি।”
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলায় গত ২১ মাসে ২৭২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। অধিকাংশকে মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অপহরণ সমাজে ভীতি এবং অস্থিরতার সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে।
শিশু–কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণ প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সম্প্রদায় ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাহাড়ি এলাকায় পাহারা ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এ ধরনের ঘটনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব।
এই ঘটনা কেবল বাহারছড়া এলাকার জন্য নয়, বরং সমগ্র টেকনাফ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নকে তুলে ধরেছে। অপহরণকারীরা সাধারণত নিখরচায় নয়, বরং অর্থের বিনিময়ে শিশুদের মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে।