দেসওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বরে প্রবাসী আয় হয়েছে ২৮৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। এটি গত বছরের একই মাসের ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বেশি। এর ফলে প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৮ শতাংশে, যা একক মাসের হিসেবে অভূতপূর্ব।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিশেষভাবে স্থানীয় টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ শুধুমাত্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়াই নয়, বরং দেশে বিনিয়োগ, খাদ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় হচ্ছে। এই অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা সৃষ্টি এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশেষ করে করোনার পরবর্তী সময়ে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি কমাতে এবং স্থায়ী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একক মাসে প্রবাসী আয়ের এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি দেশের বাজেট ও বাণিজ্য ঘাটতি সামলাতে সাহায্য করছে, পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক চক্রে আস্থা বৃদ্ধি করছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ কেবল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক সহায়তা নয়, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং সামষ্টিক উন্নয়নের পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।