খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বগুড়ায় একই রাতে পৃথক তিনটি স্থানে চারজনকে ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সোমবার রাতে সংঘটিত এসব হামলা সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধচক্রের তৎপরতা বৃদ্ধির সন্দেহ তৈরি করেছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সূত্রাপুর এলাকায়। আজাদ পাম্পের সামনে দুর্বৃত্তদের একটি দল বাবু হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে রাস্তায় ধরে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি শহরের শাহপাড়া এলাকার মৃত আবু হাসানাতের ছেলে। হামলার পর তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলেও কেউ তাকে উদ্ধার করার সাহস দেখায়নি। পরে পথচারী নিবার ও তার বন্ধুদের নজরে এলে তারা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিবার জানান, “উরুর কাছে গভীরভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। রক্তক্ষরণ এত বেশি ছিল যে কয়েক মিনিটও দেরি হলে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারত।”
হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত বাবু জানান, হামলাকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি ধারণা করছেন এটি ছিনতাইকারীদের কাজ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে রাত ১১টার দিকে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার হাকির মোড় এলাকায়। রায়হান আলী (৩৬) নামের আরও একজনকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। রায়হান সুলতানগঞ্জপাড়ার রাজা মিয়ার ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে রায়হানের ওপর এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের মতে, কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
অন্যদিকে, রাত ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার রাণীরহাটের অদূরে জোড়া তালপুকুর এলাকায় ঘটে তৃতীয় হামলা। সেখানে সাব্বির হোসেন (২২) ও সিজান (২২) নামে দুই তরুণকে ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের ওপর হামলার ধরন দেখে পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক আক্রমণ। আহত সাব্বির মিঠুর ছেলে এবং সিজান সালেক মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে ব্যক্তিগত যোগসূত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল, যার সূত্র ধরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
এই তিনটি হামলা একই রাতে ঘটায় শহরজুড়ে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের বেলা চলাচলে এখন ভয় কাজ করছে। বিশেষ করে সড়কের নির্জন অংশগুলোতে অপরাধচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে।
শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চারজনকেই রাতের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। সবার অবস্থাই আপাতত স্থিতিশীল।
পুলিশ তিনটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছে। পৃথক তদন্ত টিম নিয়োগ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্যগ্রহণ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে বগুড়ায় ছিনতাই, প্রতিশোধমূলক হামলা এবং ব্যক্তিগত বিরোধ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা এখন জরুরি।