খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের ইতিহাসের এক অগ্নিঝরা দিনে, স্বাধীনতার সংগ্রামের মাঝেই এক তরুণ লিখেছিলেন—
“দেশের সংকটময় মুহূর্তে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না। মা, তুমি কেঁদো না—এটা দেশের জন্য আমার ন্যূনতম চেষ্টা।”
এই অদম্য সাহসিকতার মালিক ছিলেন শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী, যিনি বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত। আজ তাঁর এবং তাঁর সহযোদ্ধা শহীদ বাবুলের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।
স্বাধীনতার মাত্র ১২ দিন আগে, ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করেছিল এই দুই তরুণকে। স্বপ্ন গড়ার বয়সেই তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জন্মভূমির মুক্তির জন্য।
২১ বছরের বাকী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র। অসহযোগ আন্দোলন এবং ২৫ ও ২৬ মার্চের প্রতিরোধে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। ৮ মার্চ গভর্নর হাউসে (বর্তমানে বঙ্গভবন) বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তিনি পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
১৮ এপ্রিল ১৯৭১, মা-বাবার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছেন—
“মা, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না… তুমি কেঁদো না… দেশের জন্য এটি ন্যূনতম চেষ্টা। দেশ স্বাধীন হোক—এই দোয়া করো মা।”
এই চিঠি এখনও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে, যা এক তরুণের দেশপ্রেমের অমূল্য দলিল।
ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে তিনি গেরিলা অভিযান পরিচালনা করেন। মতিঝিলে একযোগে চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তিনি আবার উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান। পরবর্তীতে দেশে ফিরে ইউনিট কমান্ডার হিসেবে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপন যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
নভেম্বরের শেষ দিকে তিনি তাঁর দল নিয়ে ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থান করছিলেন। ৪ ডিসেম্বর রাতে খিলগাঁওয়ে মাকে দেখতে গেলে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। সেখানে নির্মম নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয় বাকী ও বাবুলকে—মাত্র কয়েক পা দূরে ছিল তাঁর নিজ ঘর।
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর, দেশের প্রতি অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আব্দুল্লাহিল বাকীকে মরণোত্তর বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।
শহীদ বাকী ছিলেন অবিবাহিত। বাবা—মোঃ আবদুল বারী, মা—আমেনা খাতুন। ঠিকানা—২০৩/সি খিলগাঁও, ঢাকা। তিন ভাই, চার বোনের পরিবারের স্মৃতি আজও তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর ব্যথা ধারণ করে।
আমরা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী, শহীদ বাবুল এবং সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে। তাঁদের রক্তে রাঙানো আমাদের স্বাধীনতা এবং তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের চিরঋণী করেছে।
খবরওয়ালা /এজে