খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
গাজীপুরের টঙ্গিতে কলেজ শিক্ষার্থী তাসফিন ফেরদৌসের দুই হাত দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা ২০ ঘণ্টা পর কুড়িয়ে আনা সেই হাত পুনঃস্থাপন করে ইতিহাস গড়েছেন।
গত ৯ নভেম্বর খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় তাসফিনের দুই হাত তালু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। টঙ্গী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। টঙ্গী থেকে ঢাকা মেডিকেল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছাতে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাসফিনের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। তবু সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে চিকিৎসকরা ২০ ঘণ্টার মাথায় সফলভাবে হাত পুনঃস্থাপন করেন।
৩ ডিসেম্বর ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, এত দীর্ঘ সময় পর বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সফলতা বিরল এবং এটি দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে প্রথম।
ভুক্তভোগী তাসফিন ফেরদৌস বলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে আমার হাত ফিরে পাবে। ডাক্তারদের চেষ্টা ও আল্লাহর ইচ্ছায় হাত সচল হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠব।
তাসফিনের মা আফরোজা সুমি জানান, প্রথমে হাত পাওয়া যায়নি। টঙ্গী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় আনতে গিয়ে হাত খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ছেলে বেঁচে থাকা এবং হাতের সুস্থতা ডাক্তারদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং আল্লাহর নেয়ামত।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এই ধরনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রতিনিয়ত করা হয়। অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আসেন, যদি সময়মতো আসতেন, প্রায় সবাইকে সুস্থ করে পাঠানো যেত। এখানে ২৪ ঘণ্টা যে কেউ আসতে পারেন এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাবেন।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, শরীরের যে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা উচিত।
খবরওয়ালা /এসএস