খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের বিপক্ষে নেমেই দারুণ শুরু করেছিল ঢাকা। শুরুতেই উদ্বোধনী জুটি ব্যাট হাতে স্থিরতা দেখিয়ে উল্লেখযোগ্য রান তুলছিল। তবে ম্যাচের প্রথম ধাক্কা আসে হঠাৎই—ওপেনার আশিকুর রহমান চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যায় ৭২ রানের সম্ভাবনাময় জুটি। ব্যাটিং অর্ডারের তিন ও চার নম্বরে আসা ফয়সাল আহমেদ ও জিসান আলম কেউই দাঁড়াতে পারেননি। দ্রুত ফিরে যান ফয়সাল ৯ রানে ও জিসান ২২ রানে।
কিন্তু এখান থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন দুজন—আনিসুল ও মার্শাল। একজন তরুণ প্রতিভা, অন্যজন অভিজ্ঞতার প্রতীক। দুজনের জুটি যেন ঢাকার ইনিংসের প্রাণ হয়ে ওঠে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পরও থামেননি আনিসুল। ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক করেন এবং দিনের শেষে অপরাজিত থেকে দাঁড়িয়ে যান ১৮৩ রানে। তার ইনিংসে ছিল ১৮টি চমৎকার চার ও ৫টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। তিনি যে ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছেন, তা বলাই যায়। অন্যদিকে মার্শালও ছিলেন স্থির। ১৩২ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন তিনি।
দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৫৬ রান। পরের দিন সকালেই তারা ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। ইনিংস বড় করার পরিকল্পনা স্পষ্ট—সামনে লক্ষ্য ৫০০+ রান। চট্টগ্রামের বোলারদের জন্য দ্বিতীয় দিনের সকাল কঠিন হতে যাচ্ছে নিশ্চয়ই।
অন্যদিকে, বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ব্যাটসম্যানরা খুব সুবিধা করতে পারেননি। যদিও দলটি দিনের শেষে ৯ উইকেটে ৩০২ রান তুলতে সক্ষম হয়। সৌম্য সরকারের ৫৫ বলে ৫৬ রানই ছিল দলটির সর্বোচ্চ। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। রংপুরের হয়ে নাসির হোসেন ৩ উইকেট নিয়েছেন, যা খুলনার ইনিংসে সবচেয়ে প্রভাব ফেলে।
সিলেটের শিরোপার লড়াইও জমে উঠেছে রাজশাহীতে। বরিশালের বিপক্ষে মাঠে নেমেই শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে তারা। কারণ তিন পেসার—রেজাউর, ইবাদত ও খালেদকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছে তাদের। তবে বরিশাল যখন ৩ উইকেটে ১৮৮ রান তুলে স্বস্তিতে ছিল, তখনই সিলেটের বোলাররা ম্যাচে ফিরে আসে। দিনের শেষ সেশনে মাত্র ৮১ রানের মধ্যে বরিশালের ৬ উইকেট তুলে নেয় তারা। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মহিউদ্দিন তারেক এবং ২ উইকেট শিকার করেন আবু জায়েদ। বরিশাল ৯ উইকেটে ২৬৯ রান নিয়ে দিন শেষে স্বস্তিতে।
এদিকে ময়মনসিংহও লড়াইয়ে টিকে আছে। রাজশাহীকে প্রথম ইনিংসে ২১৯ রানে অলআউট করার পর তারা ২ উইকেটে ৭৩ রান করে দিন শেষ করে। কাল খালেদ হাসান ২৮* ও আরিফুল ইসলাম ৫* রানে দিন শুরু করবেন। ময়মনসিংহের হয়ে বল হাতে অসাধারণ ছিলেন আবু হায়দার—১২ ওভারে ৬১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন নাঈম আহমেদ।