খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়া একজন চিকিৎসককে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও (শোকজ) পাঠিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। সরকারি চাকরি বিধিমালার আলোকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেলে। ডিজি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম, বিশেষত জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ও অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে গেলে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে মৌখিক বাকবিতণ্ডা হয়। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস বিকেল চারটার দিকে ওই চিকিৎসকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান, যেখানে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি অশোভন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ও শোকজ করা হয়েছে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এদিন উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে। তবে সেমিনারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ, বিশেষ করে ওয়ান–স্টপ সার্ভিস ও জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করেন।
এ সময় ডিজি অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে টেবিল থাকার কারণ জানতে চান। তাঁর প্রশ্নের জবাবে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ধনদেব চন্দ্র বর্মণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথোপকথন মুহূর্তেই তর্কের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
ডিজির উপস্থিতিতেই ঘটে যাওয়া এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হাসপাতাল প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। কারণ, ডিজি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, এবং তাঁর প্রতি অবমাননাকর আচরণ প্রশাসনের চোখে ‘গুরুতর অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়।
ধনদেব চন্দ্র বর্মণ প্রথম আলোকে বলেন, “আমি ডিজির কাছ থেকে গুরুজনসুলভ ব্যবহার প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি সমস্যার কথা না শুনে প্রথমে শুধুই টেবিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।” তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য বা ব্যাখ্যা উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমার বন্ধুরা অধ্যাপক পদে উঠেছে, কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমার হয়নি। আমার চাকরি জীবন শেষ পর্যায়ে। আমাকে সাসপেন্ড করলেও আমার কষ্ট নেই।”
তার এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত হতাশা ও দীর্ঘদিনের অব্যক্ত ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরও নিজের প্রাপ্য স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগ তিনি আগেও সহকর্মীদের কাছে ব্যক্ত করেছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতাল প্রশাসনের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি শালীনতা বজায় রাখা সরকারি দায়িত্বের অংশ; আবার কেউ মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত ছিল উভয় পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শোকজের জবাবের ওপর নির্ভর করবে চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক অবস্থান।
ঘটনাটি আবারও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ চাপ, কাজের পরিবেশ, এবং চিকিৎসক-প্রশাসন সম্পর্কের জটিলতা সামনে এনে দিয়েছে।