খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অস্বাভাবিক চড়ায় রয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ভোক্তাদের চাপ বাড়ে, এবং অসন্তোষ স্পষ্টভাবে দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে অবশেষে এগিয়ে এলো কৃষি মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট/আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে এবং প্রতিটি আইপির আওতায় সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই সুযোগটি শুধু তাঁদের জন্যই প্রযোজ্য, যারা গত ১ আগস্ট থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছিলেন। অর্থাৎ নতুন কোনো আমদানিকারক এই তালিকায় সুযোগ পাবেন না। একজন আমদানিকারক মাত্র একবার আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েন। পাইকারি ও খুচরা বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় নতুন পেঁয়াজ এখনো বাজারে আসেনি, আগাম জাতের পেঁয়াজ সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে আমদানির অনুমতিও স্থগিত থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে যায়। ফলে দামে হঠাৎ অস্থিরতা দেখা দেয়।
বাণিজ্য পরামর্শক শেখ বশিরউদ্দীন গত ৯ নভেম্বর জানিয়েছিলেন, যদি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তেই থাকে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরে, তাহলে সরকার পুনরায় আমদানির অনুমতি দেবে। তবে দাম স্বাভাবিক হলে আবার অনুমতি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “সরকার সবসময় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অস্থিরতা সৃষ্টির প্রবণতাও বিবেচনায় রাখতে হয়।”
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় স্পষ্ট যে সরকার আর দেরি করতে চায় না। কারণ পেঁয়াজ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রান্নার উপকরণ, ফলে এর দাম বাড়লে সাধারণ পরিবার থেকে রেস্টুরেন্ট—সবার ওপরই চাপ পড়ে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বাজারজাতকরণের ব্যবধান থাকায় এই সময়টাতে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত আকারে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও এটি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলবে না। আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবুও সরকারের সিদ্ধান্ত বাজারে মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে এবং কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চলমান অস্থিরতা কমাতে সরকারের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী। এখন দেখা বাকি, এই সীমিত আমদানি বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি কত দ্রুত ফিরে আসে।