খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
মিরপুর শেরেবাংলা যেন আজ ঢাকার ব্যাটসম্যানদের উৎসবে ভরে উঠেছিল। স্টেডিয়ামের আলো-হাওয়া আজ ঢাকার পক্ষেই ছিল। রানের স্রোত এমনভাবে বইল যে স্কোরবোর্ড পরিচালনাকারীদেরও ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কিন্তু এই রানের মহাসমারম্ভের মাঝেও আনিসুলের ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার বেদনা ঢাকার ড্রেসিংরুমে আলোচনার বিষয়।
গতকাল ১৮৩ রানে থেকে দিনের শেষে ঢাকার ব্যাটাররা আশা করছিলেন আজ আনিসুলই দিনটির নায়ক হবেন। কিন্তু দিন শুরুর পরই মাত্র তিন রান যোগ করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। বলটি ছিল নিখুঁত, আর স্ট্রোক নির্বাচনে একটু অসতর্কতা তাঁকে বড় স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত করে।
মার্শাল আইয়ুবও একইভাবে সৌম্য অথচ দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেললেন। তার ১৬৫ রানের সময়জ্ঞান আর কভারড্রাইভ দর্শকদের মনে দাগ কাটে। এরপর আশিকুর রহমান নামেন। গতকাল চোটের কারণে মাঠ ছাড়লেও আজ তিনি প্রায় নিখুঁত সেঞ্চুরি করে প্রমাণ করেন তার টেকনিক ও ধৈর্য কতটা উন্নত।
৫৪১ রানের বিশাল সংগ্রহ ঘোষণা করার পরই ঢাকা বোলিং আক্রমণে নেমে আসে। পেসাররা যেন আগুন ঝরাতে শুরু করেন। রিপন মণ্ডলের নিখুঁত লাইন-লেংথ, সুমন খানের গতি আর শাকিলের সুইং—সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটাররা ছন্নছাড়া। দলীয় ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ইয়াসির ও শুক্কুর কিছুটা আশা দেখালেও ঢাকার পেসারদের গতি-সুইং থামাতে পারেননি।
অন্যান্য মাঠেও ছিল উত্তেজনার মেলা। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল যেন জাদু দেখালেন—মাত্র ১৮ রানে ৫ উইকেট। সিলেটের জাকির হাসান আজ দিনের সবচেয়ে পরিণত ইনিংস খেললেন। ১৩০ রানে অপরাজিত থেকে তিনি শুধু দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাননি; ছুঁয়ে ফেলেছেন ৬ হাজার রানের চূড়ান্ত মাইলফলক।
আজকের ঘরোয়া ক্রিকেট ছিল সেঞ্চুরি, উইকেট, রানের ঝড় আর নতুন রেকর্ডে ভরপুর—যেখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ঢাকা বিভাগ।