খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা অনাদায়ী ঋণের প্রকৃত পরিমাণ উন্মোচিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ঋণ পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি আংশিক বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকারদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মানসুর জানান, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ছয় লাখ চুয়াল্লিশ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ছত্রিশ শতাংশের সমান এবং দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে জুন মাসে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ এগারো হাজার কোটি টাকা, আর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল তিন লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার কোটি টাকা। সরকার পরিবর্তনের পর লুকানো ঝুঁকির অংশগুলো প্রকাশ্যে এলে প্রকৃত ঋণসংকট স্পষ্ট হতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের চার ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত এবং পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নেই এমন ঋণ আংশিক বাদ দেওয়ার নীতিমালা কার্যকর করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সভায় এমডিদের দপ্তরীয় সহায়ক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয় যাতে আর্থিকভাবে অসুবিধায় থাকা ঋণগ্রহীতাদের পুনর্বাসন সহজ হয়। তিনি জানান গভর্নর বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও লোকসানশ্রেণীর ঋণ বাদ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
সভায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান জানান, গভর্নর এমন ঋণগ্রহীতাদের পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়ার পরামর্শ দেন যারা ঋণ নিয়মিত করতে আগ্রহী। আলোচনায় কৃষিখাতে ঋণ বণ্টনে বৈষম্যের বিষয়টিও উঠে আসে। গভর্নর বলেন, কৃষিখাত দেশের মোট উৎপাদনের চৌদ্দ থেকে পনেরো শতাংশ অবদান রাখলেও ঋণ পায় মাত্র দুই শতাংশ। তিনি এই খাতে ঋণ বণ্টন দশ শতাংশের ওপরে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে গভর্নর বছরে কুড়ি শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেন এবং জানান যে এই খাতে প্রভিশন এক শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশে আনা হবে। সভায় ব্যক্তিগত ঋণসীমা ও কার্ডসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।
যদিও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে, বাস্তবে অনাদায়ী ঋণ বাড়তেই থাকছে। ব্যাংকারদের মতে, দুই বছরের অনুগ্রহকাল এবং মাত্র এক থেকে দুই শতাংশ আগাম জমা দিয়ে পুনর্গঠন ঝুঁকিপূর্ণ, এতে আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। অনেক প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা অনুমোদন পাওয়ার পরও আলোচনায় বসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ব্যাংকগুলো নিজেরাই পুনঃতফসিল কার্যকর করতে বাঁধা দেয়। তারা মনে করেন, নীতিগত ত্রুটি দূর না হলে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন কার্যকর হবে না এবং অনাদায়ী ঋণের ঝুঁকি কমবে না।
খবরওয়ালা /এজে