খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ বুধবার–বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের একাংশের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে অন্তত আটজন আহত হন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকালে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হোড়গাঁও চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সাজ্জাদ মাওলা বিন মিজান ও একই কমিটির সদস্য রাকিব হাসানের অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। সাজ্জাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ঘনিষ্ঠ, অন্যদিকে রাকিব কাজ করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর রাজনৈতিক বলয়ে।
এ বিরোধ চরমে ওঠে বুধবার রাতে। সে রাতে ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে রাতেই রাকিব ও তার অনুসারীরা কার্যালয়ে এসে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ছবি নামিয়ে রাখার হুমকি দেয় এবং কার্যালয় খালি করার নির্দেশ দেয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নেয়। সাজ্জাদপক্ষের অভিযোগ, রাকিব হাসান, শাহাবুদ্দিন, নজরুল, মোশারফ, বাবু ও আরিফ বকুলের নেতৃত্বে ৩৫–৪০ জনের একটি দল পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ছবি ভাঙচুর করে। হামলা ঠেকাতে গেলে সাজ্জাদ মাওলা বিন সিয়াম, জুবায়ের হোসেন, আব্দুল্লাহ, সায়েম, জুবায়ের শাহরিয়ার নাসিম ও গোলাম মাওলা নয়নসহ অন্তত আটজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত রাকিব হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। তার দাবি, ওই কার্যালয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল, এ কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানায়।