খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
পাপিয়া সারোয়ার বাংলাদেশের সংগীতদুনিয়ায় এক স্বতন্ত্র নাম। রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তার নিষ্ঠা এবং অনন্য প্রতিভা তাকে প্রতিটি শ্রোতার কাছে বিশেষ করে তুলেছে। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান যেন নতুন রূপে প্রাণিত হতো, শ্রোতার হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলত।
১৯৫২ সালের ২১ নভেম্বর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। ছায়ানটে ভর্তি হওয়ার পর বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬৭ সালে বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সংগীতের আকাশে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৭৩ সালে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই সম্মান অর্জন করা তার জন্য বিশেষ কৃতিত্বের।
“নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন নাইরে টেলিগ্রাম” গানটির মাধ্যমে তিনি দেশে-বিদেশে খ্যাতি পান। গানটি তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে তোলে।
পাপিয়া সারোয়ার দেশের জন্য রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলা একাডেমি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ প্রদান করেছে এবং সম্মানিত ফেলোশিপে ভূষিত করেছেন। তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেছেন ওয়াহিদুল হক, ড. সনজীদা খাতুন, আতিকুল ইসলাম, জাহেদুর রহিমের কাছ থেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণী বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পরিবারে স্বামী সারোয়ার আলম এবং দুই কন্যা—জারা ও জিশা—উভয়েই প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলার রবীন্দ্রসংগীতকে সমৃদ্ধ করা তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।