খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর দুপুর প্রায় ২টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে ওসমান হাদীর ওপর গুলি ছোড়ে। ঘটনার সময় তিনি জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। হামলার পর আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদীকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই হামলার আগে গত ১৩ নভেম্বর ওসমান হাদী অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি বিদেশি নম্বর থেকে আসা ফোনকল ও বার্তার মাধ্যমে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। ওই সময় তিনি জানান, নিয়মিতই বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে তাকে কল করে এবং টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে এসব হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার ক্রমাগত আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
ওইদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, তিন ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে তার কাছে কল ও টেক্সট আসে, যেগুলো তার ভাষ্যমতে লীগের খুনিরা পাঠিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব বার্তার সারসংক্ষেপ হলো—তাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হবে, তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যার কথাও বলা হয়েছে।
তার সেই স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ১৪০০ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে শুধু তার বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে তাকেও পুড়িয়ে মারা হবে। কিন্তু তিনি ইনসাফ ও ন্যায়ের লড়াই থেকে এক চুলও পিছিয়ে আসবেন না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন।
হামলার ঘটনা জানাজানি হওয়া মাত্রই তার সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকরা বিস্তারিত কিছু জানাননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে।