খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
আফ্রিকার সংঘাতকবলিত দেশ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। শনিবার (তারিখ) রাতে বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক খুদে বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করে। আইএসপিআর জানায়, সুদানের আবেই এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই সেখানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের লড়াই চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও আকস্মিক ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শান্তিরক্ষীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীর শাহাদাতবরণ এবং আরও আটজনের আহত হওয়ার খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; এই আত্মত্যাগ জাতির জন্য গৌরবের পাশাপাশি গভীর বেদনার।”
তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি এ ধরনের হামলাকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ উল্লেখ করে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে হাসপাতাল সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কোরদোফান অঞ্চলের কাদুগলি এলাকায় জাতিসংঘের একটি ভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সুদানের সেনা–সমর্থিত সরকার এই হামলার জন্য সরকারবিরোধী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে। দেশটির সার্বভৌম পরিষদ ঘটনাটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
কাদুগলি শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলমান; এতে ড্রোন, যোদ্ধা ও মিত্র মিলিশিয়া মোতায়েনের অভিযোগ রয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | আবেই/কাদুগলি, সুদান |
| নিহত বাংলাদেশি | ৬ জন শান্তিরক্ষী |
| আহত বাংলাদেশি | ৮ জন শান্তিরক্ষী |
| হামলার ধরন | ড্রোনসহ সন্ত্রাসী আক্রমণ |
| সংঘাতের পক্ষ | সুদানের সেনাবাহিনী বনাম আরএসএফ |
| বর্তমান অবস্থা | লড়াই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান |
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। শান্তিরক্ষীদের পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।