খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর বেলারুশে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী থাকা প্রধান বিরোধী নেতাসহ অন্তত ১২৩ জন রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির খবর সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন ভিয়াসনা এক ঘোষণায় জানিয়েছে, বেলারুশের প্রভাবশালী বিরোধী নেতা ভিক্টর বাবারিকো কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বার্তায় সংগঠনটি জানায়, “ভিক্টর বাবারিকো মুক্ত”—এই ঘোষণাই মুহূর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ভিয়াসনার তথ্যমতে, বাবারিকোর মুক্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০২০ সালের গণবিক্ষোভের অন্যতম নেতা মারিয়া কোলেসনিকোভা এবং মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি। কোলেসনিকোভার মুক্তির বিষয়টি তাঁর বোন তাতিয়ানা নিশ্চিত করেছেন।
ভিক্টর বাবারিকো ২০২০ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ওই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশজুড়ে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা কঠোরভাবে দমন করে সরকার। এর পর থেকেই বিরোধী রাজনীতিক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেলারুশের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পটাশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, যা বেলারুশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। পটাশ সার উৎপাদনের প্রধান উপাদান এবং দেশটির অন্যতম বড় রপ্তানি পণ্য।
মিনস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জন কোয়ালে–এর সঙ্গে আলোচনার পরই এই মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় বলে জানা গেছে। কোয়ালে বলেছেন, “দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোলে ধাপে ধাপে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।”
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো দীর্ঘদিন ধরেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো তাঁকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে শুধু মানবাধিকার ইস্যু নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মুক্তি পাওয়া রাজনৈতিক বন্দীদের একটি অংশ শিগগিরই প্রতিবেশী দেশ লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মুক্তি বেলারুশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করলেও ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক সংস্কার কতটা এগোবে, তা এখনো অনিশ্চিত।