সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে উৎসাহ বোনাসে দ্বিমুখী নীতিমালা

সরকারি মালিকানাধীন ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর জন্য উৎসাহ বোনাস প্রদানে পৃথক নীতিমালা জারি করায় দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে, লোকসানে থাকা সরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে কর্মীদের উৎসাহ বোনাস দিতে পারলেও, তুলনামূলক ভালো আর্থিক অবস্থানে থাকা অনেক বেসরকারি ব্যাংক সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক লোকসানে থাকলেও যদি মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সীমিত পরিসরে একটি উৎসাহ বোনাস প্রদানের অনুমতি দিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ তিনটির বেশি উৎসাহ বোনাস পাবেন না। এমনকি কোনো ব্যাংক বোনাস দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করলেও বিশেষ বিবেচনায় একটি বোনাস অনুমোদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে নীতিমালা জারি করেছে, তা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কঠোর। এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো বেসরকারি ব্যাংক যদি প্রকৃত অর্থে নিট মুনাফা অর্জন না করে, তাহলে তারা কোনো অবস্থাতেই কর্মীদের উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে না। শুধু তাই নয়, মূলধন পর্যাপ্ততা ও নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বোনাস দেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকার ছাড় বা সময়সীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে যে মুনাফা দেখানো হয়, সেটিকে প্রকৃত মুনাফা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতিতে সাময়িক ছাড় নেওয়া হলেও, সেই ব্যাংক উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে না। ফলে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের জন্য উৎসাহ বোনাস দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উৎসাহ বোনাস সাধারণত এক মাসের মূল বেতনের সমান হয়ে থাকে এবং অতীতে কোনো কোনো ব্যাংক বছরে সর্বোচ্চ সাতটি পর্যন্ত বোনাস দিয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকে দুই কোটি টাকারও বেশি উৎসাহ বোনাস দেওয়ার নজির রয়েছে। এসব ঘটনা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সমালোচনার জন্ম দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ধীরে ধীরে কঠোরতা আরোপ করে।

তবে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলছেন, যখন সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ও নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তখন সেসব ব্যাংকে বোনাস দেওয়ার সুযোগ রাখা কতটা যৌক্তিক। তাঁদের মতে, অনেক বেসরকারি ব্যাংক বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করলেও কেবল নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কর্মীদের প্রণোদনা দিতে পারছে না।

এই নীতিমালার ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মীদের মনোবল ও কাজের আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে দুর্বল করে দিতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।