খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক এবং আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে সামনে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য—হাদিকে হত্যার চেষ্টায় জড়িতদের সহযোগীরা হাসপাতাল পর্যন্ত এসে পৌঁছেছিল বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকর্মী ও ডাকসু সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জুমা দাবি করেন, এই হত্যাচেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত অপারেশন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা সরাসরি হামলা চালিয়েছে, তারা একা নয়; তাদের পেছনে সক্রিয় সহযোগী নেটওয়ার্ক রয়েছে, যারা এখনো পুরোপুরি সক্রিয়। এমনকি সেই নেটওয়ার্কের সদস্যরা আহত হাদিকে দেখতে বা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতাল পর্যন্ত চলে এসেছিল বলেও তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
হামলার ঘটনার দুই দিন পার হয়ে গেলেও মূল হামলাকারী বা পরিকল্পনাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জুমা। তিনি বলেন, যাকে একবার আটক করা হয়েছিল, তার সব তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। এরপরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে না পারা সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার ভাষায়, এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জুমা আরও বলেন, তাদের বিশ্বাস অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। বরং ‘আসামি পালিয়েছে’—এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দায় এড়ানো যায় অথবা পালাতে সহযোগিতা করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। তার মতে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এতে প্রমাণ হয় যে অপরাধচক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ দাবি হিসেবে তিনি জানান, হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের সহযোগীরা হাসপাতাল পর্যন্ত এসে পৌঁছেছিল। তার ভাষায়, “এই প্ল্যান একজন করেনি, একজন এক্সিকিউটও করেনি। পুরো সিন্ডিকেট এখনো অ্যাকটিভ।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, হামলার পরও হাদির জীবন ঝুঁকিমুক্ত নয় এবং হাসপাতালেও তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে জুমা ওসমান হাদি এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা জোরদারের জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, তারা পুরো সিন্ডিকেটকে জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার হতে দেখতে চান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলনকারীরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, কিন্তু এই ধৈর্যেরও সীমা আছে।
এই ঘটনা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার বিষয় নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর এমন হামলা এবং তার পরবর্তী নিরাপত্তাহীনতা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।