খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ ও আর্থিক দুর্বলতা নিয়ে যখন সাধারণ আমানতকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, তখন এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দুর্বল বা সংকটাপন্ন ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বুধবার ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের অন্তত ১৭টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশের বেশি ছাড়িয়েছে। এই চিত্র দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে এ অবস্থায় কোনো ব্যাংককে অধিগ্রহণ বা জাতীয়করণ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
তার ভাষায়, ব্যাংকগুলোকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই দায়বদ্ধ করে তোলা হবে। কোনো ব্যাংক যদি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সহায়তা, তদারকি এবং নিয়ন্ত্রক ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু সরাসরি আমানত ফেরতের দায়িত্ব নেবে না।
অন্যদিকে ব্যাংক খাতের এই চাপের মধ্যেও দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর এসেছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে মোট ১৭০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৪ ডিসেম্বর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২০ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।
সাম্প্রতিক মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ (মার্কিন ডলার)
মাস | রেমিট্যান্সের পরিমাণ
জুলাই | ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ
আগস্ট | ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার
সেপ্টেম্বর | ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার
অক্টোবর | ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার
নভেম্বর | ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, হুন্ডি দমনে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার ইতিবাচক প্রভাবেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে এই দুই দিকই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।