Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগামী দিনে প্রায় ১০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে সরাসরি তাদের নিজস্ব বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং লড়াই সরঞ্জাম সরবরাহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনায় যে চরম বিপর্যয় এবং নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, সেই শিক্ষা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রিজার্ভ ইউনিট ‘ডিভিশন ডেভিড’ (৯৬) মূলত বয়সে ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে থাকা সেনাদের নিয়ে গঠিত। এই সেনারা মূলত তাদের রিজার্ভ দায়িত্ব শেষ করার পর স্বেচ্ছায় আবার দায়িত্ব নেন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সেনাকে এম৪ বা উন্নত এম১৬ রাইফেল, ম্যাগাজিন, কমব্যাট ভেস্ট, হেলমেট এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। সেনারা এই সরঞ্জাম বাড়িতেই রাখবেন, যাতে জরুরি সময়ে তারা দ্রুত নিজ নিজ ব্যাটালিয়নে যোগ দিতে পারেন।
এটি কেবল অস্ত্র সরবরাহ নয়; এটি একটি নীতিগত পরিবর্তন। পূর্বে নিরাপত্তার কারণে সেনাদের ছুটিতে অস্ত্র বাড়িতে নেওয়া অনুমোদিত ছিল না। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় বছরভর অস্ত্র বাড়িতে রাখার অনুমতি থাকবে। রিজার্ভ সেনারা বছরে কেবল কয়েক সপ্তাহই ইউনিফর্ম পরবেন, বাকি সময় তারা বেসামরিক নাগরিক হিসেবে থাকলেও অস্ত্রের দায়িত্ব তাদেরই থাকবে।
ইসরায়েলের মোট রিজার্ভ সেনার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে ৯২৩ জন সেনা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, একই সময় ফিলিস্তিনে প্রায় ৭১ হাজার নিহত ও এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগ ইসরায়েলের ভবিষ্যত নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধুমাত্র সেনাদের প্রস্তুতিই বাড়াবে না, বরং দেশের সামরিক প্রতিক্রিয়ার গতি ও কার্যকারিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে, অপ্রত্যাশিত হামলা বা বড় ধরনের সংঘাতের সময় সেনারা দ্রুত সরাসরি মোকাবিলা করতে পারবে।