খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার প্রতিবাদে আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝিতে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মহাসম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই মহাসম্মেলন থেকে পরবর্তী আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ।
সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক যৌথ প্রতিবাদ সভা শেষে এই ঘোষণা দেন তিনি। প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভা শেষে হোটেলের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণকারীরা মানববন্ধন করেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, “আজকের এই সভায় সবাই একটি কথাই জোর দিয়ে বলেছেন—ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ছাড়া এই দমননীতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আমাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যাবে না। সেই লক্ষ্যেই আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা জানুয়ারির মাঝামাঝিতে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মহাসম্মেলনের আয়োজন করব। সেখান থেকেই আমরা পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করব।”
তিনি আরও বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীতে যারা হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে, তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এটি শুধু দুটি পত্রিকার প্রশ্ন নয়, বরং গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াই।
ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ তুলে এ কে আজাদ বলেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রথম আলোতে হামলার পর আশঙ্কা করেছিলেন যে ডেইলি স্টারেও হামলা হতে পারে। সে কারণে তিনি সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সময়মতো কোনো কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “যখন সহায়তা এসেছে, তখন সব পুড়ে যাওয়ার পর এসেছে।”
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এটি শুধু প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের ওপর হামলা নয়, এটি সরাসরি গণতন্ত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর আঘাত।” তিনি এই ঘটনাকে দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় প্রথম আলো। তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়, যার ফলে পুরো ভবনটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। একই রাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়েও একই ধরনের হামলা হয় এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়। এসব ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই হামলার ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত এবং এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত সাংবাদিকদের মহাসম্মেলন সেই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।