খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কৃত্রিমভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খনির শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবির মূল ভিত্তি, পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রির জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা না করা এবং বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে কয়লা ক্রয় করানো, যা খনিটিকে লোকসানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খনির ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫ হাজার পরিবার জীবন-জীবিকা হারানোর মুখে পড়বে।
গত সোমবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে খনির ভেতরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা খনির পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে খনিটিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছেন। শ্রমিকরা অবিলম্বে বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিতর্কিত দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেছেন। দাবি আদায় না হলে তারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে খনি চালুর পর থেকে এটি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও বড়পুকুরিয়া খনি লাভজনক। এ পর্যন্ত খনি ভ্যাট, কর ও রয়্যালটি বাবদ সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মান পেয়েছে।
বর্তমানে খনির কোল ইয়ার্ডে কয়লা রাখার স্থান সংকুচিত। ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন হলেও সেখানে পাঁচ লাখ টনের বেশি কয়লা মজুত রয়েছে। কয়লার স্তূপ ১৫ ফুটের বদলে ৫০ ফুট উঁচুতে পৌঁছেছে, ফলে ইতিমধ্যেই সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়া এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এই কয়লা ব্যবহার হচ্ছে না এবং অন্য কোথাও বিক্রির অনুমতি নেই।
খনির আর্থিক ও উৎপাদন তথ্য (সম্ভাব্য):
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতি টন কয়লা উৎপাদন খরচ | ১৫০–১৭৬ ডলার |
| পিডিবি ক্রয়মূল্য | ৯১–১১০ ডলার |
| ইয়ার্ড ধারণক্ষমতা | ২,২০,০০০ টন |
| মজুত কয়লা | ৫,০০,০০০ টন |
| সরকারি অর্থায়ন (ভ্যাট, ট্যাক্স, রয়্যালটি) | ৫,৫০০ কোটি টাকা |
| খনিতে নির্ভরশীল পরিবার | প্রায় ২৫,০০০ পরিবার |
খনির মহাব্যবস্থাপক কে এম রাজিবুল আলম জানিয়েছেন, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ কয়লা জমে থাকার কারণে নতুন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কয়লা বিক্রির সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, আগামী মার্চে কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু হলে মজুত কয়লা ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
শ্রমিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই কৃত্রিম লোকসানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে খনিটিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা চলছে। তারা দাবি করেছেন, যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে।