খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদাদ নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও চারজন উচ্চপদস্থ লিবিয়ান কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে, যখন তারা আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ফেরার পথে ছিলেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ‘ফ্যালকন ৫০’ মডেলের বিজনেস জেটটি রাত ৮টা ১০ মিনিটে আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে রাত ৮টা ৫২ মিনিটে কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে বিমানটির রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পূর্বে বিমানটি হাইমানা জেলায় জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিল।
পরবর্তীতে তুর্কি জেন্ডারমারি আঙ্কারা থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে হাইমানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে। ধ্বংসাবশেষ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাবেইবাহ এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, “এই দুর্ঘটনা জাতির জন্য এক বড় ট্র্যাজেডি। সামরিক বাহিনী ও দেশের মানুষের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এমন কিছু মানুষকে হারালাম, যারা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন। তাঁরা শৃঙ্খলা ও জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতীক ছিলেন।”
উল্লেখযোগ্য, লিবিয়ার ত্রিপোলি সরকার এবং তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চলতি সপ্তাহে আল-হাদাদ আঙ্কারায় সফর করেছিলেন তুর্কি সেনাপ্রধান ও অন্যান্য সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য।
নিম্নে দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ান কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | নাম | পদবী | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ | জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদাদ | সেনাপ্রধান | ত্রিপোলি সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা |
| ২ | আনসারী সুলতান | সহকারী সেনা কমান্ডার | বিমান দুর্ঘটনায় নিহত |
| ৩ | ফাহাদ আল-মাহদী | স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা প্রধান | বিমান দুর্ঘটনায় নিহত |
| ৪ | সালেম বিন হুসেইন | লজিস্টিক প্রধান | বিমান দুর্ঘটনায় নিহত |
| ৫ | হামজা আল-জাবরি | সামরিক সহকারী | বিমান দুর্ঘটনায় নিহত |
এ দুর্ঘটনার ফলে লিবিয়ার সামরিক নেতৃত্বে বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দুর্ঘটনা দুই দেশের জন্যও একটি দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।