খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমীকরণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে উপজেলা বিএনপির একটি বিশাল অংশ। আজ শুক্রবার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে রাশেদ খানকে ওই এলাকায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, কোনো ‘বহিরাগত’ নয় বরং দীর্ঘদিনের ত্যাগী স্থানীয় নেতার হাতেই তুলে দিতে হবে ধানের শীষ।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কালীগঞ্জ শহরের প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের পরনেই ছিল প্রতীকি কাফনের কাপড়, যা রাজপথে এক চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাসস্ট্যান্ডে এসে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মিণী মুর্শিদা জামান বেল্টু।
নিচে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভের মূল কারণসমূহ ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ | বিশেষ মন্তব্য |
|---|---|---|
| ঘোষিত প্রার্থী | রাশেদ খান (সাধারণ সম্পাদক, গণ অধিকার পরিষদ)। | বিএনপি জোটের শরিক দলের কোটায় মনোনীত। |
| মনোনয়ন প্রত্যাশী | সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও মুর্শিদা জামান বেল্টু। | স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী ও প্রভাবশালী নেতৃত্ব। |
| বিক্ষোভের ধরণ | কাফনের কাপড় পরে মিছিল ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা। | বহিিরাগত প্রার্থী বর্জনের ডাক। |
| মূল অভিযোগ | অর্থের বিনিময়ে ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মনোনয়ন। | স্থানীয় নেতৃত্বের অবমূল্যায়নের দাবি। |
| ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা | স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ইঙ্গিত। | তৃণমূল কর্মীদের চাপে অনড় স্থানীয় নেতারা। |
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে মুর্শিদা জামান বেল্টু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসনে আমরা জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলাম। অথচ আজ যখন সুসময় এসেছে, তখন একজন বহিরাগতকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা রক্ত দেব কিন্তু বহিরাগত প্রার্থী মানব না।” অন্যদিকে, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করেন যে, একটি মহলের ষড়যন্ত্র ও অর্থের বিনিময়ে এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কেন্দ্র যদি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করে তবে তিনি সাধারণ মানুষের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি এবার কৌশলগত কারণে শরিকদের ২৮টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১০টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেন, যেখানে ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের নাম আসতেই স্থানীয় বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; এমনকি যুবদলের দুই কর্মী কানে ধরে রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এই আসনটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।