খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে পৌষ ১৪৩২ | ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আফ্রিকান নেশনস কাপে জয়রথ অব্যাহত রেখেছে মহাদেশটির সফলতম দল মিসর। অধিনায়ক ও ফুটবল তারকা মোহাম্মদ সালাহর নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব বা শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। মরক্কোতে চলমান এই আসরে লিভারপুল তারকার পা থেকেই আসছে সব গুরুত্বপূর্ণ গোল, যা ফারাওদের অষ্টম শিরোপা জয়ের স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণভাগে শক্ত দেয়াল তুলে দাঁড়ালেও বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে বাফানা বাফানা রক্ষণভাগ খেই হারিয়ে ফেলে। প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় মিসর। স্পট কিক থেকে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি মোহাম্মদ সালাহ। তাঁর নিখুঁত লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় দল। তবে আনন্দ উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা খায় মিসরীয়রা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিসরের এক খেলোয়াড়। ফলে ম্যাচের বাকি পুরো সময় ১০ জনের দল নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণ সামলাতে হয়েছে তাদের।
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচের ফলাফল | মিসর ১ – ০ দক্ষিণ আফ্রিকা |
| একমাত্র গোলদাতা | মোহাম্মদ সালাহ (৪৫ মিনিট, পেনাল্টি) |
| লাল কার্ড | মিসর (প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে) |
| পেনাল্টি বিতর্ক | দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদন নাকচ (রেফারি কর্তৃক) |
| টুর্নামেন্টে অবস্থান | প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত |
| টানা জয় | ২ ম্যাচ (বনাম জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা) |
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের মিসরকে চেপে ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলার শেষ দিকে তারা জোরালো পেনাল্টির আবেদন জানায় যখন মিসরের ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিমের হাতে বল লাগে। দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের দাবি ছিল এটি পরিষ্কার পেনাল্টি, কিন্তু রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) বা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি। এই সিদ্ধান্তটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে একরাশ হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। ১০ জন নিয়ে লড়াই করেও রক্ষণভাগের বীরত্বে জয় ছিনিয়ে নেয় মিসর।
মোহাম্মদ সালাহ আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হলেও দেশের হয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিটি এখনো উঁচিয়ে ধরতে পারেননি। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। মরক্কোর মাটিতে এবারের আসরে সালাহ যেন একাই টানছেন দলকে। রেকর্ড সাতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস থাকলেও গত কয়েক আসরে মিসরকে শেষ মুহূর্তে হতাশ হতে হয়েছে। এবার নকআউট পর্বে সবার আগে পা রেখে সালাহ বিশ্বকে বার্তা দিলেন যে, তাঁর লক্ষ্য কেবল একটিই—আরাধ্য সেই শিরোপা অর্জন।