খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
পৌষের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তীব্র শীতের কবলে পড়েছে পুরো দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষজনের দৈনন্দিন জীবন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচলের জন্য হেডলাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতের আঁধারে কুয়াশার কারণে মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা দেশের নদী পথে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই জেলাগুলো হলো: চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, হালকা থেকে ঘন কুয়াশার প্রকোপ অন্তত আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে। জানুয়ারির শুরুতে শীত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কিছু এলাকায় কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে।
ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের নদী অববাহিকা অঞ্চলে মধ্যম থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা থাকায় নৌপথে চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২৬ ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমনভাবে রেকর্ড করা হয়েছে:
| জেলা/উপজেলা | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°C) | সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (°C) |
|---|---|---|
| যশোর | ৯.০ | ২৬.৫ |
| চুয়াডাঙ্গা | ৯.৬ | ২৫.৮ |
| গোপালগঞ্জ | ৯.৮ | ২৬.০ |
| পাবনা (ঈশ্বরদী) | ১০.০ | ২৬.২ |
| কক্সবাজার (টেকনাফ) | ১৪.৫ | ২৯.০ |
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, বিকিরণজনিত কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবেশ করা বায়ুতাড়িত কুয়াশার কারণে সামগ্রিকভাবে ঘন কুয়াশার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কুয়াশা মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত থাকায় সূর্যের আলো কম পৌঁছে, ফলে তাপমাত্রা আরও কম অনুভূত হচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে, এবং অনেকেই জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ও আরিচা–কাজিরহাট নৌরুটে সন্ধ্যার পর ফেরি চলাচল বন্ধ হচ্ছে। দেশের আটটি বিভাগের ওপর মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে।
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সাধারণ মানুষ। ঘন কুয়াশা, কনকনে শীত এবং হিমেল হাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। দিনেও স্বস্তি নেই, আর রাতের পর শীত আরও তীব্র হয়ে ওঠছে।