খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি ঐতিহাসিক রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাজিবের বিরুদ্ধে আনা মোট ২১টি অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং চারটি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত প্রকাশ করেছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সরকারের মাল্টি-মিলিয়ন ১এমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ২.২ বিলিয়ন রিঙ্গিত নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন।
বিচারক কলিন লরেন্স সেকুয়েরাহ রায়ের মধ্যে বলেছেন, “আসামিপক্ষ দাবি করেছিলেন, এ অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তদন্ত ও প্রমাণসমূহ এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। তথ্য-প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায়, নাজিব তার ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন।”
সাজা বিবরণ:
| অভিযোগের ধরন | সংখ্যা | সাজা প্রতি অভিযোগ | মোট সাজা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ক্ষমতার অপব্যবহার | ৪ | ১৫ বছর | ৬০ বছর | একই সঙ্গে কার্যকর |
| অর্থ পাচার | ২১ | ৫ বছর | ১০৫ বছর | একই সঙ্গে কার্যকর |
মালয়েশিয়ার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষ নাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে এক দশক আগেই। নাজিব প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবি উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তার পদদুষ্ট ব্যবহার করেছিলেন। এই মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগের জন্য প্রত্যেকটিতে ১৫ বছর করে এবং অর্থ পাচারের ২১টি অভিযোগের জন্য প্রত্যেকটিতে ৫ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। সবগুলো সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
উল্লেখযোগ্য, ২০২০ সালে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ছয় বছর পর্যন্ত কমানো হয়েছিল। নতুন রায়ের মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বড় মামলা কার্যকর হলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃঢ়তার জন্য একটি বড় বার্তা বহন করছে।
মালয়েশিয়ার ইতিহাসে ১এমডিবি কেলেঙ্কারির ঘটনা এখনও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে। এ মামলায় রায় ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, যেখানে অনেকেই এটিকে দেশে আইনের শাসনের জয় হিসেবে দেখছেন।