খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
মাঠের ফুটবলে আর্জেন্টিনা এই মুহূর্তে স্বর্ণসময়ে পা রাখছে। বিশ্বকাপজয়ী আলবিসেলেস্তেরা সামনে এগোচ্ছে শিরোপা ধরে রাখার নতুন মিশনে, লিওনেল মেসিকে ঘিরে সমর্থকদের স্বপ্নও ছুঁয়েছে আকাশ। কিন্তু মাঠের বাইরের বাস্তবতা যেন ঠিক উল্টো ছবি আঁকছে। আন্তর্জাতিক সাফল্যের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা।
মঙ্গলবার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত এএফএর সদর দপ্তরে অভিযান চালায় দেশটির পুলিশ। কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার–সংক্রান্ত একটি বড় তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। শুধু সদর দপ্তর নয়, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্র দক্ষিণ এজেইজাতেও তল্লাশি চালানো হয়। উল্লেখ্য, এই এজেইজাতেই নিয়মিত অনুশীলন করেন মেসি-দিবালারা।
তদন্তের সূত্রপাত মূলত ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাড়িতে অভিযান থেকে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের এএফএর ‘একচ্ছত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক এজেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তদন্তের জাল গড়িয়ে এএফএ পর্যন্ত পৌঁছানোয় বিষয়টি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।
এছাড়া তদন্তের তালিকায় রয়েছে ‘সুর ফিনানজাস’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যারা গত বছর আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগ ও জাতীয় দলের অন্যতম স্পন্সর ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার কর ফাঁকি দিয়েছে। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এমন গুঞ্জন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে এএফএ। সংস্থাটির দাবি, তারা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নোংরা প্রচারণার শিকার। জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিরোধ থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা মনে করে। এমনকি বিষয়টি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের নজরেও রয়েছে বলে দাবি করেছে ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। প্রেসিডেন্ট মিলেই চান আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাবগুলো অলাভজনক সংস্থা থেকে পাবলিকলি ট্রেডেড স্পোর্টস কোম্পানিতে রূপান্তরিত হোক। কিন্তু এএফএর বর্তমান আইন কাঠামোতে সেই সুযোগ নেই। ফলে ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো বদলানোর চাপ এবং সাম্প্রতিক এই অভিযান—দুটো মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের স্থান | এএফএ সদর দপ্তর, বুয়েনস এইরেস; দক্ষিণ এজেইজা ট্রেনিং সেন্টার |
| প্রধান অভিযোগ | কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার |
| অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান | ট্যুরপ্রোডএন্টার, সুর ফিনানজাস |
| অভিযোগের অঙ্ক | আনুমানিক ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার |
| আলোচিত ব্যক্তি | এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া |
| রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট | ক্লাবগুলোর কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে মিলেই সরকারের আগ্রহ |
মাঠের সাফল্য আর মাঠের বাইরের সংকট—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আর্জেন্টিনা ফুটবল এখন এক জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফলই বলে দেবে, এই অভিযান কতটা আইনি বাস্তবতা, আর কতটা রাজনৈতিক কৌশল।