খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আমদানি-নিয়ন্ত্রিত বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের তল্লাশি করে এবং বিমানবন্দর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব সিগারেট উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
বিমানবন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে আসা যাত্রী মিনহাজুল করিম এবং মিনহাজুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের ব্যাগেজ স্ক্যানিং করেন। তল্লাশিকালে মিনহাজুল করিমের ব্যাগ থেকে ২০০ কার্টন এবং মিনহাজুল ইসলামের ব্যাগ থেকে ৩৫০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের একটি নির্জন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৬৯০ কার্টন সিগারেটের একটি বড় চালান জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৪০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শলাকার সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার।
বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যাগেজ রুলস বা যাত্রী (অ-পর্যটক) আগমন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন বিদেশি বা বাংলাদেশি যাত্রী বিদেশ থেকে আসার সময় সর্বোচ্চ এক কার্টন (২০০ শলাকা) সিগারেট সাথে আনতে পারেন। এর অতিরিক্ত কোনো সিগারেট আনার সুযোগ নেই এবং কেউ যদি অতিরিক্ত পরিমাণ সিগারেট বহন করেন, তবে তা বাজেয়াপ্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও তথ্যাবলি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অভিযানস্থল | শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম। |
| সময় ও তারিখ | বুধবার, রাত পৌনে ১০টা। |
| জব্দকৃত কার্টন সংখ্যা | ১,৩৪০ কার্টন। |
| মোট শলাকা সংখ্যা | ২,৪৮,০০০ শলাকা। |
| জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য | আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা। |
| অভিযুক্ত যাত্রীগণ | মিনহাজুল করিম (২০০ কার্টন) ও মিনহাজুল ইসলাম (৩৫০ কার্টন)। |
| পরিত্যক্ত অবস্থা | ৬৯০ কার্টন। |
আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী, সিগারেট বাংলাদেশে একটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিগারেট আমদানি করতে হলে প্যাকেটের গায়ে বাংলায় ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’—এই বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ বার্তা মুদ্রিত থাকতে হবে। জব্দকৃত চালানটিতে এই শর্তের ব্যত্যয় ঘটায় এবং ব্যাগেজ রুলস লঙ্ঘন করায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সিগারেটগুলো আটক করে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা সিগারেটের চালানটি বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাষ্ট্রীয় গুদামে জমা রাখা হয়েছে। কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী অভিযুক্ত যাত্রীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান রোধে এবং শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।