খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের প্রথম আঞ্চলিক শাখা অফিস চালু করতে যাচ্ছে, যার যাত্রা শুরু হবে সিলেট থেকে। সূত্রের খবর, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সিলেট অফিসের উদ্বোধন করা হতে পারে।
এই পদক্ষেপটি বোর্ডের ‘ক্রিকেট তৃণমূলকরণ’ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে খেলাধুলার উন্নয়নের পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা সহ অন্যান্য বিভাগেও একইভাবে আঞ্চলিক অফিস স্থাপন করা হবে।
বিসিবির একটি সূত্র জানায়, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো ‘অ্যাসোসিয়েশন’ হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট বিভাগের নাম ধরে পরিচালিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, সিলেটের অফিস হবে “বিসিবি সিলেট”, চট্টগ্রামের অফিস হবে “বিসিবি চট্টগ্রাম” ইত্যাদি। প্রতিটি অফিসে একজন প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন, যিনি অফিসের সব কার্যক্রম দেখবেন। এদের জন্য আলাদা অর্গানোগ্রাম এবং স্টাফ কাঠামো থাকবে।
আঞ্চলিক অফিসপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের আবেদন আহ্বান করা হবে। বোর্ডের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ক্রিকেট উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিসিবি ভারতের রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার মতো একটি কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে সিলেটে বিপিএল চলছে, এবং চট্টগ্রামের সব ম্যাচ সিলেটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সিলেটেই আঞ্চলিক অফিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আঞ্চলিক ক্রিকেটের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা দেশের ক্রিকেট সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিচের টেবিল থেকে আঞ্চলিক অফিসগুলোর প্রাথমিক পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে:
| বিভাগ | আঞ্চলিক অফিসের নাম | প্রধান | কার্যক্রমের লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| সিলেট | বিসিবি সিলেট | নিয়োগপ্রাপ্ত | স্থানীয় ক্রিকেট উন্নয়ন, বিপিএল আয়োজন |
| চট্টগ্রাম | বিসিবি চট্টগ্রাম | নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে | জেলা ও বিভাগীয় লেভেলে খেলাধুলার প্রসার |
| খুলনা | বিসিবি খুলনা | ভবিষ্যতে | শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু |
| বরিশাল | বিসিবি বরিশাল | ভবিষ্যতে | স্থানীয় প্রতিযোগিতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম |
বিসিবির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও সুবিন্যস্ত, কার্যকর ও সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে বাস্তবে পরিণত করবে।