খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের বিমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আইআরডিএআই) সম্প্রতি বিমা আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিমা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মে আরও নমনীয়তা অর্জন করেছে। সংশোধিত আইন একাধিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত ধারা একত্র করে একটি একক ধারা—ধারা ২৭-এর অধীনে নিয়ে আসছে, এবং কার্যকর সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে ধারা ২৭এ, ২৭বি, ২৭সি ও ২৭ডিকে একত্রিত করে সহজ ও সংহত আইন কাঠামো তৈরি হয়েছে।
আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পলিসিধারকদের দায়ভার সমর্থনকারী সম্পদে যে কোনো বন্ধক বা চার্জ আরোপের উপর নিষেধাজ্ঞা রিপো, রিভার্স রিপো এবং সিকিউরিটিজ লেন্ডিং লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এটি বিমা কোম্পানিগুলিকে তাদের তরল সম্পদ পরিচালনায় আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেয়। পাশাপাশি, সংশোধনীতে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে বিনিয়োগের উপর প্রাকৃতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়েছে, তবে তা নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকার শর্তে সীমাবদ্ধ থাকবে।
একজন শীর্ষ বিমা কর্মকর্তা বলেন, “আগে অনেক বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিধান সরাসরি আইনে লেখা থাকত। এখন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সিকিউরিটিজ ব্যতীত, বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি-নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হবে। এটি নিয়ন্ত্রককে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।”
২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিমা খাতের মোট সম্পদ (AUM) ছিল ৭৪.৪ লক্ষ কোটি টাকা। তবে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিমা সংস্থাগুলি এখনও প্রধানত সরকারি ঋণে বিনিয়োগ করে। এতে ঝুঁকিমুক্ততা নিশ্চিত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি পলিসি ধারকদের প্রত্যাশিত রিটার্ন ধারাবাহিকভাবে পূরণ করা কঠিন হয়। ফলে, অন্যান্য আর্থিক পণ্যের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি বিমা সঞ্চয় পণ্যের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
বিমা খাতের বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র (AUM, মার্চ ২০২৫ অনুযায়ী)
| বিনিয়োগ ধরন | মোট পরিমাণ (লক্ষ কোটি টাকা) | বিনিয়োগের শেয়ার (%) |
|---|---|---|
| সরকারি ঋণ | ৪২.৫ | ৫৭.১ |
| কর্পোরেট ঋণ | ২০.৩ | ২৭.৩ |
| ইকুইটি | ৭.২ | ৯.৭ |
| অন্যান্য সম্পদ | ৪.৪ | ৫.৯ |
| মোট | ৭৪.৪ | ১০০ |
আইআরডিএআই-এর এই সংশোধনী বিমা শিল্পকে আরও বহুমুখী বিনিয়োগের সুযোগ দেবে এবং বাজার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বিমা শিল্পের প্রতিযোগিতা ও পলিসিধারকদের জন্য রিটার্ন বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রমাণিত হতে পারে।