খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে পৌষ ১৪৩২ | ৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসায় ইংল্যান্ড ক্রিকেটে এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। পাঁচ টেস্টের সিরিজে তিনটিতেই হার মানার পর ইংল্যান্ডের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট বা ‘বাজবল’ দর্শনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে জয় তুলে নিয়ে ১৫ বছরের খরা কাটালেও সিডনিতে শেষ টেস্টের আগে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ভবিষ্যৎ। তবে দলের এমন কঠিন সময়েও কোচের পাশ থেকে সরছেন না অধিনায়ক বেন স্টোকস। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইংল্যান্ডের বর্তমান ক্রিকেট কাঠামোতে ম্যাককালাম অপরিহার্য।
২০২২ সালে যখন স্টোকস ও ম্যাককালামের জুটি গঠিত হয়েছিল, তখন তারা বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড দলকে টেনে তুলে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সেই জাদুর প্রভাব কি এখন ম্লান হয়ে আসছে? পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ৩৪টি টেস্টে ইংল্যান্ডের জয়ের পাল্লায় যুক্ত হয়েছে ১৬টি জয়, বিপরীতে হারও ১৬টি। বড় শক্তিগুলোর বিপক্ষে দীর্ঘ সিরিজের ফলও তাদের পক্ষে নেই। এই ব্যর্থতার দায়ভার স্বভাবতই কোচ ও নীতিনির্ধারকদের ওপর পড়ছে। ক্রিকেট পরিচালক রব কি এবং ম্যাককালামের চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও, বোর্ডের অন্দরমহলে পরিবর্তনের গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।
অধিনায়ক বেন স্টোকস অবশ্য সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাককালামকে ছাড়া তিনি আগামীর ইংল্যান্ড দল কল্পনা করতে পারেন না। স্টোকসের মতে, বারবার মানুষ বদলে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আসেনি। অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০১০-১১ সালের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ড বারবার পর্যুদস্ত হয়েছে এবং প্রতিবারই নতুন মানুষকে দায়িত্ব দিয়ে সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। কিন্তু চার বছর আগে যে ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছিল, এবারও সেই পথে হাঁটলে ফলাফল একই হবে বলে সতর্ক করেছেন স্টোকস। তিনি মনে করেন, বর্তমান দলকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে ম্যাককালামই সঠিক ব্যক্তি।
বর্তমানে ম্যাককালাম টেস্টের পাশাপাশি সাদা বলের ক্রিকেটেও প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তার অধীনে খেলবে ইংল্যান্ড। অনেকে মনে করছেন দ্বৈত দায়িত্ব সামলানোর চাপ টেস্ট দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে, কিন্তু স্টোকস তা মানতে নারাজ। সিডনির শেষ টেস্টের জন্য ঘোষিত ১২ জনের দলে চোটের কারণে থাকছেন না গাস অ্যাটকিনসন, যার পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন শোয়েব বশির বা ম্যাথু পটস। সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে হাতছাড়া হলেও শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে কোচের ওপর থাকা চাপ কমাতে মরিয়া স্টোকস বাহিনী।
স্টোকস-ম্যাককালাম জুটির পারফরম্যান্স ও দলগত প্রেক্ষাপট
| সূচক | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| জুটি শুরুর সময়কাল | মে ২০২২ |
| বর্তমান চুক্তির মেয়াদ | ২০২৭ সাল পর্যন্ত |
| প্রাথমিক সাফল্য | ১১ টেস্টের ১০টিতে জয় |
| বর্তমান ফর্ম (৩৪ টেস্ট) | ১৬ জয়, ১৬ হার, ২ ড্র |
| ২০২৫-২৬ অ্যাশেজ ফল | ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয় |
| সিডনি টেস্টের পরিবর্তন | ম্যাথু পটস ও শোয়েব বশিরের অন্তর্ভুক্তি |
| পরবর্তী আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট | ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ |
বেন স্টোকসের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, মাঠের পারফরম্যান্স যা-ই হোক না কেন, দলের ভেতরের বন্ধন এবং দর্শনের প্রতি বিশ্বাস এখনো অটুট। এখন দেখার বিষয়, সিডনি টেস্ট এবং আসন্ন বিশ্বকাপ ম্যাককালামের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না।