খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
হবিগঞ্জের ছাত্র রাজনীতি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের আটক হওয়ার ঘটনাটি। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ তাকে আটক করার পর থেকেই জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতা-কর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আটকের এই ঘটনার মূলে রয়েছে মাহদী হাসানের একটি সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য। শায়েস্তাগঞ্জ থানা চত্বরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’ এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যদিও মাহদী পরবর্তীতে এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত এবং মুখ ফসকে তিনি এমন কথা বলে ফেলেছেন। কিন্তু বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়।
আটক ও আন্দোলনের ঘটনার সময়ক্রম
| সময় | তারিখ | ঘটনার বিবরণ |
|---|---|---|
| বৃহস্পতিবার মধ্যরাত | ১ জানুয়ারি | ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান আটক। |
| শুক্রবার দুপুর | ২ জানুয়ারি | এনামুলের মুক্তির দাবিতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও ও বিতর্কিত মন্তব্য। |
| শনিবার সন্ধ্যা ৭:০০ | ৩ জানুয়ারি | মাহদী হাসানকে আটক করে পুলিশ। |
| শনিবার রাত ৭:৩০ | ৩ জানুয়ারি | নেতা-কর্মীদের থানার সামনে অবস্থান শুরু। |
| শনিবার রাত ১০:৩০ | ৩ জানুয়ারি | থানার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বক্তব্য প্রদান। |
থানার সামনে অবস্থানরত নেতা-কর্মীরা মাহদী হাসানের মুক্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেখানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন যে, যারা জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত খুনি তাদের গ্রেফতার না করে বরং তুচ্ছ ভুলের অজুহাতে একজন মাঠপর্যায়ের সৈনিককে হেনস্তা করা হচ্ছে। এস এম রাসেল ও ফয়সল আমিনের মতো নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অথচ এখন সেই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিদেরই অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ও থানা চত্বর ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাহদী হাসান হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তির দাবিতে থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন মাহদী। সেই সময়ই তিনি বানিয়াচং থানায় হামলা ও পুলিশ হত্যার ঘটনাটি নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে বক্তব্য দেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, তবে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বা অন্য কোনো মামলার প্রেক্ষাপটে আটক করেছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে সরাসরি কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি। তিনি জানিয়েছেন যে, আটকের কারণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাহদী হাসানের এই আটক এবং নেতা-কর্মীদের এই কঠোর অবস্থান হবিগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।