খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে এক ভবঘুরে নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যযুগীয় কায়দায় চালানো এই পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুলশান নর্দা এলাকার ‘মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদ্রাসা’র সামনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ওই নারীকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে এবং প্রচণ্ড শীতের সকালে তাঁর গায়ে বারবার পানি ঢেলে উল্লাস করছে। ভুক্তভোগী নারী নিজেকে রক্ষা করার আকুতি জানালেও নির্যাতনকারীরা তাতে কর্ণপাত করেনি।
ওসি রাকিবুল হাসান জানান, নির্যাতনের শিকার ওই নারী একজন ভবঘুরে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই নারী চুরির উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন নারীকে এভাবে জনসম্মুখে হেনস্তা করা গুরুতর অপরাধ। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তারা সবাই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার মূল তথ্যগুলো নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | গুলশান নর্দা, মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদ্রাসার সামনে। |
| ঘটনার সময় | ২ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭:৩০ মিনিট। |
| ভুক্তভোগী | পরিচয়হীন এক ভবঘুরে নারী। |
| অভিযোগের ধরণ | খুঁটিতে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। |
| গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় | মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষার্থী (৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ)। |
| আইনি পদক্ষেপ | পুলিশ কর্তৃক স্বপ্রণোদিত মামলা ও গ্রেপ্তার। |
থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ভবঘুরে হওয়ায় তাঁর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনস্বার্থ ও মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রেখেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, চুরির সন্দেহ হলেও কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে নির্যাতন করার অধিকার কারো নেই। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ওই নারীর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।