খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সমন্বয় দলের (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাতওয়ারী সোমবার ঘোষণা করেছেন, দেশের রাজনীতিতে দাসত্বের যুগ শেষ। তিনি বলেন, “অধিকারহীন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আর সহ্য করা হবে না—আমাদের এগারো দলের জোট শুধুমাত্র স্বাধীনতার জন্য কাজ করবে।”
পাতওয়ারীর মন্তব্য আসে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সমাধি জিয়ারত করার পর। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এখনও অনসুলভ, যা বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, “ওসমান হাদির সূচিত ন্যায় ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।”
সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপে পাতওয়ারী দেশের প্রশাসনিক অসামঞ্জস্য এবং বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “হাদির হত্যাকারীরা এখনও শাস্তি পায়নি, যা আমাদের গণতান্ত্রিক নীতির জন্য ভয়াবহ হুমকি।” তিনি নাগরিকদের এক হয়ে ন্যায় ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে আহ্বান জানান।
এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় পাতওয়ারী জানিয়েছেন, ঢাকার শাহবাগ ও রমনা এলাকা (ঢাকা-৮) “স্বাধীনতার অঞ্চল” হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা ভীতি সৃষ্টি কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের তিনি আহ্বান জানিয়েছেন অন্যায় প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে।
পাতওয়ারী আরও বলেন, জোটটি অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে ওসমান হাদির হত্যার মামলাগুলো যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচার করা হবে। তিনি প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে কেউ ক্ষমতার পুতুল হয়ে না থাকে।”
আগামী দিনে এগারো দলের জোট পরিকল্পিত প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, দাবি বাস্তবায়ন এবং স্বাধীন ও দায়বদ্ধ শাসন ব্যবস্থার দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে।
নিচে জোটের মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| আন্দোলনের নাম | ওসমান হাদি স্বাধীনতা সংগ্রাম |
| নেতৃত্ব | নাসিরউদ্দিন পাতওয়ারী |
| অংশগ্রহণকারী জোট | এগারো দলের জোট |
| চিহ্নিত এলাকা | ঢাকা-৮ (শাহবাগ ও রমনা) |
| প্রধান দাবি | রাজনৈতিক হত্যার তদন্ত; প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা |
| মূল লক্ষ্য | দাসত্বের রাজনীতি শেষ; স্বাধীনতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা |
পাতওয়ারীর ঘোষণাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি ন্যায়, নাগরিক মর্যাদা এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আহ্বান।