খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার ছাড়পত্র পেয়েছেন। বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে প্রথম এই খবরটি প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবিসি বাংলার বরাতে জানিয়েছেন যে, ওবায়দুল কাদের মূলত বার্ধক্যজনিত কারণে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তিনি বলেন, “মি. কাদেরের নিয়মিত চিকিৎসা চলে। এবারের তীব্র শীতের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছিল। মূলত কিছু রুটিন চেকআপের জন্যই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এবং সোমবার তিনি ছাড়পত্র পেয়েছেন।” নাছিম আরও যোগ করেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরকে ‘ভেন্টিলেশনে’ রাখা হয়েছে বলে যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অপর এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে ওবায়দুল কাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। শুরুতে তাঁকে বাড়িতেই কৃত্রিম অক্সিজেনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনে চিকিৎসকরা তাঁকে দুই দিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। খবরটি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো হলে তিনি নিয়মিত ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কলকাতার ঠিক কোন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে দলের কোনো নেতাই বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেননি।
ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| বর্তমান অবস্থান | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত |
| অসুস্থতার ধরন | বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট |
| হাসপাতালে অবস্থানের সময় | ২ দিন (৫ জানুয়ারি, সোমবার ছাড়পত্র প্রাপ্ত) |
| প্রধান চিকিৎসাসেবা | রুটিন চেকআপ ও অক্সিজেন সাপোর্ট |
| শারীরিক অবস্থা | বর্তমানে স্থিতিশীল ও শঙ্কামুক্ত |
| দলীয় তদারকি | শেখ হাসিনা নিয়মিত তদারকি করছেন |
| গুজব সংক্রান্ত তথ্য | ভেন্টিলেশনে নেওয়ার খবরটি অসত্য বলে দাবি |
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে ওবায়দুল কাদেরের হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছিল এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর একটি সফল ‘বাইপাস সার্জারি’ সম্পন্ন হয়। সেই থেকে তাঁকে নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ওবায়দুল কাদের লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন। তাঁর এই অসুস্থতা এবং ভারতের হাসপাতালে ভর্তির খবরটি সংবাদমাধ্যমে আসার পর তাঁর অবস্থান ও স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করছেন এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রামে রয়েছেন।