খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার বীমা খাত ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ধীরগতির বৃদ্ধি, লাভজনকতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপের সঙ্গে বাজারের পরিপক্কতা ও ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা মিলিত হয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। কোরিয়া ইনসুরেন্স নিউজপেপার এবং ইনসুরেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ প্রতিবেদনে এই সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
জীবন বীমা ক্ষেত্রে সঞ্চয়মুখী পণ্যের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রচলিত নীতির বিক্রির হ্রাস এই খাতের বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, অ-জীবন (নন-লাইফ) বীমা খাত ধীর কিন্তু স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে রয়েছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমা ক্ষেত্রে। দীর্ঘমেয়াদি অ-জীবন পলিসির ধীর সম্প্রসারণ নির্দেশ করছে যে বীমা কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারবে না এবং বৈচিত্রকরণ ও নতুন ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
| বীমা খাত | ২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত বৃদ্ধি | মূল বৃদ্ধি চালক |
|---|---|---|
| জীবন বীমা | প্রায় ১% | সঞ্চয়ভিত্তিক পণ্যের চাহিদা হ্রাস |
| অ-জীবন বীমা | প্রায় ৩% | স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমা নীতি |
| সামগ্রিক খাত | প্রায় ২% | দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির ধীরগতি, সুরক্ষা মনোযোগ |
লাভজনকতা সংকটও তীব্র হচ্ছে। কন্ট্রাকচুয়াল সার্ভিস মার্জিন (CSM) বৃদ্ধির হার ধীর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিভিন্ন বীমা কোম্পানির পারফরম্যান্সে বৈষম্য বৃদ্ধি করতে পারে। জীবন বীমাকারীরা স্থিতিশীল বা সামান্য হ্রাসমান CSM দেখতে পেতে পারেন, আর অ-জীবন বীমাকারীদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি আশা করা যায়।
আর্থিক স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। কোরিয়ার ইনসুরেন্স কেপিটাল স্ট্যান্ডার্ড (K-ICS) অনুপাত ২০২৫ সালের তুলনায় স্থিতিশীল বা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, যা কার্যকর Tier-1 মূলধন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব প্রমাণ করে। বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মূলধন ব্যবস্থাপনা ও অপারেশনাল দক্ষতার ভিন্নতা বাড়তে পারে, যা সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
প্রতিবেদনে সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংযোজন, ডিজিটাল অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ সুপারিশ করা হয়েছে।
বীমা কোম্পানিগুলো ডিজিটাল রূপান্তর, উন্নত সম্পদ-দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস, স্বাস্থ্যমুখী উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পণ্যের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল বৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। এসব কৌশল দক্ষিণ কোরিয়ার বীমা খাতের স্থিতিশীলতা ও লাভজনকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।