খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব গাজায় দখলের সীমা আরও সম্প্রসারণ করেছে। গাজা সিটির তুফাহ, শুজাইয়া ও জেইতুন এলাকায় এই সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও আশ্রয় নেওয়ার স্থান সীমিত হয়ে পড়েছে।
আলজাজিরার মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী কার্যক্রম চালাচ্ছে সালাহ আল-দিন সড়কের আশেপাশে। এতে অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সরতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে গাজা ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। চুক্তি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৪৫ জন আহত হয়েছেন। আলজাজিরা জানিয়েছে, “ইয়েলো লাইন” বা ইসরায়েলের দখল সীমা সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ব গাজার আরও এলাকা দখল করা এবং মানুষের আশ্রয় নেওয়ার স্থান সংকুচিত করা। জেইতুন, শুজাইয়া ও তুফাহ এলাকার বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না, ফলে আশপাশের অঞ্চলে জনসংখ্যা দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে গেছে।
রাতভর এবং সোমবার সারাদিন জোরালো ড্রোন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসের উত্তর ও পূর্ব দিকে কামান, হেলিকপ্টার ও গুলি নিক্ষেপের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে।
| স্থান | তারিখ | ঘটনা | হতাহতের সংখ্যা | বয়স/বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| খান ইউনিস (দক্ষিণ গাজা) | রবিবার | ইসরায়েলি গুলি | ৩ | ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ও এক জেলে অন্তর্ভুক্ত |
| জেইতুন, শুজাইয়া, তুফাহ | সোমবার | দখল সম্প্রসারণ | – | বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না |
| পশ্চিম তীর | সোমবার | অভিযান ও আটক | ~৩০ | সাংবাদিক ইনাস ইখলাউই, ১৫ বছর বয়সী ইয়াজান আল-আলুলকসহ |
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী গত সোমবার প্রায় ৩০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক ইনাস ইখলাউই, যাকে হেব্রনের পশ্চিমে ইধনা শহরে বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তুলকারেমের নূর শামস শরণার্থী শিবিরে অভিযান চলাকালীন ১৫ বছর বয়সী কিশোর ইয়াজান আল-আলুলককেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া বেথলেহেমের উত্তরে আইদা শরণার্থী শিবির থেকে ২৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আটক হয়েছেন। কালকিলিয়া, রামাল্লাহ ও তুবাস থেকেও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব অভিযানের সময় বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিতভাবে রাতের সময় এই ধরনের অভিযান চালিয়ে থাকে, যা সাধারণ জনগণের জীবনে অনিশ্চয়তা এবং ভীতি সৃষ্টি করছে।
এ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলগুলোতে দখল সম্প্রসারণ ও প্রতিদিনের হামলার কারণে সাধারণ মানুষ দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছেন।