খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে আক্রান্ত হয়েছে দেশের বড় অংশ। উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত এই কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় সূর্যের দেখা মিলছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।
গত সোমবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলা এবং কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, দিনাজপুরসহ মোট ১২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কুয়াশা ও হিমালয় থেকে নেমে আসা শীতল বাতাস দেশের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলেছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।
রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দৃশ্যমানতা ৫০ থেকে ১০০ মিটারের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে সড়ক ও নৌপথে চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জ-আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌপথে কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল সোয়া ৭টায় পুনরায় শুরু হয়। আরিচা-কাজীরহাট রুটে ফেরি চলাচল প্রায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল সোয়া ৯টায় স্বাভাবিক হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে – ৮.৪°C। এর আগে রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে – ৯.৫°C। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বেড়েছে, তবে কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি কমেনি।
সর্বশেষ আবহাওয়ার সারসংক্ষেপ
| এলাকা | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°C) | সর্বাধিক দৃশ্যমানতা (মি) | শৈত্যপ্রবাহের অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ঈশ্বরদী, পাবনা | ৮.৪ | ৫০-১০০ | প্রবল |
| শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার | ৯.৫ | ৭০-১০০ | মধ্যম |
| ঢাকা | ১২ | ৫০-৭০ | প্রবল কুয়াশা |
| রাজশাহী বিভাগ (৮ জেলা) | ১০-১১ | ৬০-৯০ | প্রবল |
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহের পরিধি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা কমেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েকদিন দেশের মানুষকে কনকনে শীতের প্রভাব আরও কিছুদিন ভোগ করতে হতে পারে। তবে মঙ্গলবার ও বুধবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলক বৈকালিক রাউন্ড, ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও মশারি, এবং শীতকালীন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ রোধ করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এভাবে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ দেশের সাধারণ মানুষ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রভাব ফেলছে, এবং আপাতত স্বস্তির জন্য খুব বেশি সময় নেই।