খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁদপুর সদর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাহেলা আক্তার শান্তা (১৮) নামের এক মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থী। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার ঘোষেরহাট নামক স্থানে দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শান্তা উপজেলার বড় শাহতলী এলাকার শামছুল হুদার মেয়ে এবং স্থানীয় জিলানী চিশতী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও জনরোষ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে কলেজ থেকে ফেরার পথে ঘোষেরহাট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন শান্তা। এসময় চাঁদপুর অভিমুখী ‘আইদি পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে তাঁকে চাপা দেয়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাস নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। উত্তেজিত জনতা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ঘাতক চালকের কঠোর শাস্তির দাবি জানায়।
নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় ও দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | রাহেলা আক্তার শান্তা (১৮) |
| পিতার নাম | শামছুল হুদা |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | জিলানী চিশতী কলেজ, চাঁদপুর |
| বিভাগ ও শ্রেণি | বিজ্ঞান বিভাগ, দ্বাদশ শ্রেণি |
| দুর্ঘটনার সময় | বুধবার, ৭ জানুয়ারি (দুপুর) |
| ঘটনাস্থল | ঘোষেরহাট এলাকা, চাঁদপুর সদর |
| ঘাতক যানবাহন | আইদি পরিবহন (যাত্রীবাহী বাস) |
নিরাপদ সড়কের দাবি ও প্রশাসনের ভূমিকা
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জিলানী চিশতী কলেজের সহপাঠীরা শান্তার অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতিরোধক ও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ ঘাতক বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং অনভিজ্ঞ চালকদের আধিপত্যের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গতিরোধক না থাকা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘোষেরহাট এলাকায় সড়ক পারাপারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে থাকে। শান্তার এই অকাল মৃত্যু আবারও দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এবং পথচারীদের নিরাপত্তার অভাবকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
পরিশেষে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন বিদায় কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া নয়, বরং পুরো জাতির জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জনগণের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।