খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর কদমতলী এলাকায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া লোহার ভাঙারি ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মো. শহিদুল এবং তাঁর সহযোগী নার্গিস বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) কদমতলী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নৃশংসতা
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে কদমতলী থানাধীন আদর্শ সড়ক এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাহাবুদ্দিন তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাহাবুদ্দিনকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। সাহাবুদ্দিনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে সন্ত্রাসীরা আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ধোঁয়ার আড়ালে ককটেলের শব্দে এলাকা প্রকম্পিত করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা সাহাবুদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিচে এই হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সারণি আকারে দেওয়া হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের পরিচয় | সাহাবুদ্দিন (লোহার ভাঙারি ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী)। |
| ঘটনার স্থান | আদর্শ সড়ক এলাকা, কদমতলী, ঢাকা। |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি, ২০২৬) দিবাগত রাত। |
| গ্রেপ্তারকৃত আসামী | মো. শহিদুল (মূল পরিকল্পনাকারী) ও নার্গিস বেগম। |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | র্যাব-১০ (ছায়া তদন্তের মাধ্যমে)। |
| মামলার বিবরণ | নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কদমতলী থানায় মামলা করেন। |
| হত্যার মোটিভ | ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রুতা। |
র্যাবের ছায়া তদন্ত ও গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পরপরই র্যাব-১০ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, অভিযুক্তরা কদমতলী এলাকাতেই আত্মগোপন করে আছে। বুধবার বিকেলে এক ঝটিকা অভিযানে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শহিদুল এবং অন্যতম অভিযুক্ত নার্গিস বেগমকে আইনের আওতায় আনা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুল স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসায়িক আধিপত্য এবং পুরোনো বিরোধের জেরে সাহাবুদ্দিনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।
এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতি
এক সময়ের শান্ত আদর্শ সড়ক এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তবে র্যাব কর্তৃক মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবসায়ী মহলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসায়ীকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কদমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।